মাওলানা সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় মায়ের অভিযোগ

নোমান মাহমুদ, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ স্বামীর জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠা করা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনায় বখে যাওয়া সন্তান কর্তৃক একের পর এক বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টিসহ, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বারংবার হুমকি-ধামকি প্রদানের প্রতিবাদে মাওলানা এক সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মা। একবার নয়, সন্তানকে সংশোধন করতে না পেরে এনিয়ে মোট তিন বার বখে যাওয়া সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাভারের পৌর এলাকা শাহীবাগে।

অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী মোসাঃ রহিমা বেগম উল্লেখ করেন, তার স্বামী মৃত মাওলানা আব্দুল করিম বেচে থাকতে তার জীবদ্দশায় সাভারের পৌর এলাকা শাহীবাগে নিজ মালিকানাধীন ৪.১৭ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেন ‘আল জামিয়াতুল আরাবিয়া ইছলাহুল নেছা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বেচে থাকতে নিজেই এর পরিচালনা করলেও মৃত্যুর পর সেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নেন স্ত্রী মোসাঃ রহিমা বেগম। আর এখানেই যত গন্ডগোল! মাওলানা পাশ করা ঐ নারীর বড় সন্তান খন্দকার জুনায়েদ করিম নিজ মা’কে সড়িয়ে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিতে চায় নিজের হাতে।

ভুক্তভোগী ঐ নারী অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব বুঝে নিতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দেওয়া ছাড়াও নিজ গর্ভধারিণী মা’কে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিতেও দ্বিধা করেনি মাওলানা পাশ করা বখে যাওয়া এই সন্তান। শুধু হুমকি ধমকি-ই নয় নিজ মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটিয়েছে সে।

এদিকে, ওয়াকফকৃত এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের মঙ্গলের স্বার্থে বখে যাওয়া সন্তানের হাতে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব তুলে দিতে রাজি নয় মা। কিন্তু সন্তানকে বারংবার সংশোধনের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে থানা পুলিশের দারস্থ হন এই নারী। একে একে বিভিন্ন ঘটনার উপর ভিত্তি করে সাভার মডেল থানায় ৩টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সর্বশেষ অভিযোগটি দায়ের করা হয় চলতি মাসের ৯ তারিখে।

এবিষয়ে মোসাঃ রহিমা বেগম বলেন, “ছেলে টাকা পয়সার কোন হিসাব রাখেনা, নিজের খেয়াল খুশিমত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে চায়। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান খুব শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যাবে। ছেলেকে সংশোধনের অনেক চেষ্টা করেছি, শেষে না পেরে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

যদিও মায়ের দায়ের করা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত যুবক মাওলানা জুনায়েদ করিম দাবি করেন, বাবার প্রতিষ্ঠা করা প্রতিষ্ঠানের মঙ্গলের জন্য বড় সন্তান হিসাবে এটি পরিচালনা করতে চান তিনি।

মাকে মারধরের প্রশ্নই আসে না দাবি করে তিনি বলেন, “আমার একটু রাগ বেশি এটি সত্যি। রাগের মাথায় অনেক সময় মা’কে গালমন্দ করেছি, আবার পরে তার কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। যেহেতু আমার মা শিক্ষিত না, আর তাছাড়া ইসলাম নারী নেতৃত্ব সমর্থন করেনা, তাই আমি চাইনা তিনি মাদ্রাসা পরিচালনা করুক। প্রয়োজনে অন্য কাউকে দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করা যেতে পারে।”

অভিযোগের দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.এফ.এম সায়েদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”