যেভাবে আটক করা হয় সেই ভারতীয় পাইলটকে

ভারত-পাকিস্তানে সংঘাতের মধ্যে গতকাল বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুই ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী। এসময় এক ভারতীয় পাইলটকে আটক করা হয়। আটককৃত ভারতীয় পাইলটের নাম অভিনন্দন।

এদিকে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম দ্য ডনের অনলাইনে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখার ৭ কিলোমিটার ভেতরে বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে যুদ্ধবিমানের লড়াই হয়। দুটি বিমানে আগুন লেগে যায়। একটি নিয়ন্ত্রণরেখা ধরে এগিয়ে ভারত সীমান্তে গেলেও অন্যটি দ্রুত নিচে নামতে থাকে। বিমানটি পাকিস্তান সীমান্তে পড়ে যায়। এ সময় প্যারাস্যুট নিয়ে নেমে আসেন ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন।

এ সময় অভিনন্দন নেমে এসেই দ্রুত একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তিনি কিছু কাগজ গিলে ফেলার ও কিছু কাগজ পানিতে ভিজিয়ে নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা চালান। এ সময় তাকে ধরতে স্থানীয় তরুণেরা ছুটে যান। কিন্তু অভিনন্দনের কাছে পিস্তল থাকায় তার কাছে কেউ যেতে পারেনি। তিনি তখন জায়গাটি ভারত না পাকিস্তান তা তরুণদের কাছে জানতে চান। একজন জানান, এটি ভারত।

তখন ওই পাইলট ভারতীয় স্লোগান দেন। সাথে সাথে পাল্টা পাকিস্তান শ্লোগান দেন তরুণরা। তখন তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতি। নিজেকে আহত বলে জানান এবং পানি চান। কিন্তু কয়েকজন তরুণ তার ওপর আক্রমণাত্মক হলে তিনি পিস্তল বের করেন। তখণ তরুণেরা পাথর হাতে তুলে নেন।

এরপর অভিনন্দন দৌড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে যে তরুণেরা তাড়া করছিলেন, তাদের দিকে পিস্তল তাক করে শূন্যে গুলি ছোড়েন অভিনন্দন। পরে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তরুণেরা তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এ সময় এক তরুণ তাঁর পায়ে আঘাত করেন।

এরপরে অভিনন্দন তাকে মেরে না ফেলার আহ্বান জানান। কয়েক তরুণ তার দুই হাত ধরে ফেলেন। কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন। কয়েকজন তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পাকিস্তানের সেনারা চলে আসে এবং তাদের হেফাজতে নেয়। পরে সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে ভিমবার এলাকায় সেনা স্থাপনায় নেওয়া হয় তাকে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে।

পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। এরপর ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান।