সেই ভবনের নীচে মিলল বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল

গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয় আশেপাশের ভবনগুলো।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত ও দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১ জন। এদের মধ্যে দুইজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এদিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত ওয়াহেদ ম্যানসনের বেজমেন্টে (মাটির নিচের কক্ষে) বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মজুদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তাছাড়া এখানে আগুন ছড়ালে পরিস্থিতি ভয়াবহতা ও নির্মমতা মাত্রা হতো কল্পনাতীত বলে জানিয়েছেন তারা।

এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ওয়াহিদ ম্যানশনে কোনো কেমিক্যালের গোডাউন ছিল না।’ কিন্তু আজ শুক্রবার ওয়াহিদ ম্যানশনের বেজমেন্টে গিয়ে দেখা মেলে শত শত ড্রাম, বিভিন্ন কন্টেইনার ও প্যাকেটে নানা ধরনের কেমিক্যাল। রং তৈরিতে ব্যবহৃত হতো এসব কেমিক্যাল, পাউডার এবং লিকুইড। কেমিক্যালে ভরপুর পুরো বেসমেন্ট।

এদিকে আজ শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের রতন নামে এক কর্মী বেজমেন্টটি খুঁজে পান। সেখানে কেউ মৃত আছেন কি না, তা জানতে তালা খুলে ভেতরে ঢুকতে গিয়েই পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের মজুদ। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, এই বেজমেন্টে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই ডাইয়িং এবং প্রিন্টিং-এর কাজে ব্যবহৃত হতো।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়মে বেজমেন্টে কার পার্কিং থাকার কথা, সেখানে গোডাউন করা হয়েছে, এমনকি গোডাউনে মালপত্র রাখার যেসব নিয়ম কানুন রয়েছে সেগুলোও মানা হয়নি। পুরোই নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেজমেন্টে গোডাউনে রাসায়নিক রাখা হয়েছে। আর সেখানে ঢোকার একটিই রাস্তা আছে। সেখানে কাজ করে না মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক। ভেতর থেকে চিৎকার করলেও বাইরে থেকে শোনা যাওয়ার সুযোগও নেই।’

এ সময় রতন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আকার ধারণ করত। আমাদের কষ্ট আরো ব্যাপক হতো। এখানে আগুন লাগলে থামানোর কোনো পথ ছিল না। এগুলো পুড়ে পুড়ে নিজে নিজে আগুন থামত।’

কিছু বস্তার গায়ে লেখা আছে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কার্বন’। কিছু ড্রামের গায়ে নারায়ণগঞ্জের মেমার্স সফি টেক্সটাইলের নাম লেখা। এগুলো চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। এ সময় রতন বলেন, ‘এই গুদামের বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তারা এসেই এসবের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।’