স্ত্রীকে নামাতে পারেননি, তাই নামেননি স্বামীও

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে দেশের অন্যতম ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৭০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা অনেক।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকে আগুন জ্বলছে। এদিকে, ফায়ার সার্ভিস থেকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ে করেন বছর দুয়েক হলো। আর কদিন পরেই প্রথম সন্তানের মুখ দেখতেন তারা। সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন রিয়া। কিন্তু পুরান ঢাকার চকবাজারের আগুন কেড়ে নিল সব কিছু। রিয়া-রিফাতের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্নও পুড়ে শেষ হয়ে গেল তাদের।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে মরদেহ শনাক্ত করতে না পেরে অপেক্ষারত স্বজনদের সূত্রে জানা যায় এ তথ্য।

এ ব্যাপারে রিয়া ও রিফাতের বন্ধু আল-আকসার সাজিদ গণমাধ্যমকে জানান, ওয়াহিদ ম্যানশন ভবনের যে বাসায় রিয়া ও রিফাত থাকতেন তা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে তাদের না পেয়ে সোজা ছুটে এসেছেন হাসপাতাল মর্গে। তিনি জানান, চেহারা দেখে মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় সাজিদ আরও বলেন, ‘রিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ছাড়াও নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আগুন লাগার পর রিফাতের পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। কিন্তু রিয়াকে নিয়ে নামতে পারছিল না বলেই রিফাতও নামেননি। দুজনই পুড়ে মারা যায়।’

সাজিদ বলেন, ‘এ খবর শুনে রিয়ার পরিবারের লোকজনও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রিফাতের পরিবারের লোকজন এসেছেন। তারা লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত লাশ শনাক্ত করা যায়নি।’