দল থেকে অব্যাহতির পর মুখ খুললেন কাদের

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গতকাল ২২ মার্চ শুক্রবার রাতে এক সাংগঠনিক নির্দেশে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানান।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তবে তিনি পার্টির প্রেসিডিয়াম পদে বহাল থাকবেন। পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এই মর্মে আমার পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব মহলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, আমি ইতোপূর্বে ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, আমার অবর্তমানে পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পার্টি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং আমি এটাও আশা প্রকাশ করেছিলাম যে, পার্টির পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে। কিন্তু পার্টির বর্তমান সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় আমার ইতোপূর্বেকার সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নিলাম।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘যেহেতু কাদের পার্টি পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন, পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে এবং তিনি পার্টির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। পার্টির সিনিয়র নেতারাও তার নেতৃত্বে সংগঠন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনতাবস্থায় সংগঠনের স্বার্থে পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং কো-চেয়াম্যানের পদ থেকে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হলো। তবে তিনি পার্টির প্রেসিডিয়াম পদে বহাল থাকবেন। তিনি সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদে থাকতে পারবেন কি-না তা জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি পার্টি নির্ধারণ করবে।’

এদিকে হঠাৎ এরশাদ কেন সিদ্ধান্ত পাল্টালেন, তা জানতে যোগাযোগ করা হলে জি এম কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলের দু–তিনজন নেতার কাছ থেকে বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে দল থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি।’

কিন্তু জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিএম কাদেরের বিষয়ে তাদের আপত্তি থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আচমকা। এমনকি তাকে সরিয়ে দ্রুত কাউকে বসানো হলে এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে করেন তারা।

জাপা সূত্রে জানা গেছে, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এ পদে দেখা যেতে পারে। মাসুদ উদ্দিন এক-এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।

এদিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। পরে গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রেসিডিয়ামের সদস্য এবং নিজের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন এরশাদ। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।