দায়িত্ব না নিলেও যেভাবে নূরুল হকই ভিপি থাকবেন

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ প্যানেলের নুরুল হক নুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচনে ২৫তম ভিপি হিসেবে ডাকসুর গৌরবমাখা ইতিহাসের অংশ হলেন তিনি। আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে জয় পেয়েছেন গোলাম রাব্বানী এবং এজিএস হিসেবে জয় পেয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। আর তারা দুইজনই ছাত্রলীগের ব্যানারে নির্বাচন করেন।

সোমবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে নির্বাচনের এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

তবে পুনর্নির্বাচন দাবিতে ক্যাম্পাসে এখনও আন্দোলন চলছে। যে কারণে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। নবনির্বাচিত ভিপি মো. নূরুল হক নূর শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব না নিলে সংসদ কিভাবে চলবে। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তিনি ভিপি পদে থাকবেন কিনা।

তবে বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর গঠনতন্ত্র বলছেন অন্যকথা। জানা গেছে, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে শপথ বলে কোনো ধারা উল্লেখ নেই। হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদ নেতাদের অভিষেক অনুষ্ঠান হয়। সে হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা সংসদের কোনো বৈঠকে না গেলেও নূরুল হক নূরুই থাকবেন ডাকসুর ভিপি।

বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ডাকসু নেতাদের শপথের কথা কোথাও লেখা নেই। দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়।

এ বিষয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমার সময় কোনো শপথ নেয়ার মতো কিছু হয়নি। দায়িত্ব হস্তান্তর বলেও কিছু হয়নি। আমরা বড় করে অভিষেক অনুষ্ঠান করেছিলাম। সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।

ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র দুটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথমত, যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদ অংশে নির্বাহী কমিটি, কার্যালয় বণ্টন, সংসদের তহবিল, শূন্যপদ পূরণ, গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ ১৬টি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আর দ্বিতীয় খণ্ডে হল সংসদের নিয়মাবলি, কার্যক্রমসহ তেরোটি বিষয় রয়েছে। সেখানকার কোথাও ডাকসু নেতাদের কোনো ধরনের শপথ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ নেই।

হল সংসদের ৭২নং ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাহী কমিটি একটি ব্যয়ের বাজেট প্রস্তুত করবে এবং অভিষেক অনুষ্ঠানের ১৪ দিনের মধ্যে তা সংসদে উপস্থাপন করবে।

এখন যদি এমন হয় যে, ভিপি দায়িত্ব না নিলে সংসদ কিভাবে চলবে সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কারণ তিনি ডাকসুর সভাপতি।গঠনতন্ত্রের নিয়মে তিন দিনের মধ্যে উপাচার্যকে নিষ্পত্তি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাতে উপাচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।