দুই সতীনের তান্ডবে আত্মহত্যা স্বামীর, তবুও চলল দুই সতীনের তান্ডব

স্বামী কার? তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকার কে? তা নিয়ে দুই সতীনের মধ্যে তুমুল বিবাদ। এক সতীন আর এক সতীনের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হন। গ্রামজুড়ে এনিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। আর দুই সতীনের এই লড়াইয়ের জেরে তাঁর যে এলাকায় ‘বদনাম’ হচ্ছে, সেটা বুঝতে পেরে অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বামী।

স্বামীর মৃত্যুর পরও দুই সতীনের লড়াই অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ। পরস্পরকে দোষারোপ করে দুই সতীনই পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন গাজোল থানায়।

রাজেশবাবু স্থানীয় বরিজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি গম্ভীরা শিল্পী হিসাবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন আগেই ওই শিক্ষক দুর্গা প্রসাদ নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সংসারের অশান্তি শুরু হয়। ওই স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বনিবনা ছিল না। এরপর বছর দুয়েক আগে ওই শিক্ষক দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে পিংকি মিস্ত্রি নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে গাজোলের পূর্ব কলেজপাড়া এলাকায় থাকতেন ওই শিক্ষক। পাশের গ্রামে থাকতেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী দুর্গাদেবী। কিন্তু স্বামীর অধিকার এবং সম্পত্তির ভাগবণ্টন নিয়ে দুই সতীনের ক্রমাগত বিবাদ চলছিল।

দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী পিংকি মিস্ত্রী বলেন, “আমার স্বামীর বেশ কিছু জমি রয়েছে গাজোলে। ওই জমির মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। সেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল আমার সতীন দুর্গা প্রসাদ। রবিবার রাতে দুর্গাদেবী দলবল নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে ঝামেলা করে। তুমুল ঝগড়া করে ফিরে যায়। এই গোলমালের কথা জানতে পেরেই স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই তিনি বাইরে থেকে কীটনাশক খেয়ে বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতেই মৃত্যু হয় স্বামীর। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কারণেই আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। গাজোল থানায় অভিযোগ করেছি।”

যদিও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী দুর্গা প্রসাদ। তাঁর পালটা অভিযোগ, “পিংকির বাড়িতেই থাকতেন আমার স্বামী। সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে পিংকি। ২৮ শতক জমি হাতানোর উদ্দেশ্যে পিংকিই অশান্তি শুরু করে। এই অশান্তির জেরেই স্বামী আত্মঘাতী হয়েছেন।”