প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করতে আপত্তি জানালেন ভিপি নুর

দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ডাকসু এবং ১৮টি হল সংসদের নির্বাচন হয়। এতে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে গত ১৬ মার্চ নুরসহ ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যান। কিন্তু পরের দিন ১৭ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর সবগুলোপদে পুনরায় নির্বাচন চান বলে ঘোষণা দেন।

নুরুল হক নুরের এমন দ্বৈতমতের কারণে ডাকসুতে তিনি দায়িত্ব নিবেন কি না সেটা নিয়ে সংশয় বাড়তে থাকে। তবে গতকালের ঘোষণার পর সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো আজ। আজ শনিবারের সভায় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানীসহ নির্বাচিত ২৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ভিপি নূরুল হক নূর ও জিএস গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ডাকসুর ৩৬৫দিনের মেয়াদ শুরু হলো।

এদিকে ডাকসুর আজীবন সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। এই দুজন ছাড়া ডাকসুর বাকি সদস্যরা এ প্রস্তাবে সমর্থন দেন।

শনিবার (২৩ মার্চ) ডাকসুর কার্যকরী পর্ষদের প্রথম সভায় তাকে এই সদস্য করার প্রস্তাব করেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিম অর্ণি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসুর আজীবন সদস্যে প্রস্তাবে আপত্তির বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এই বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে যে ডাকসু, সেখানে তার মতো সম্মানিত ব্যক্তিকে সদস্য করা ঠিক হবে না। তার কথার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন সমাজসেবা সম্পাদকও।

তবে বিষয়টি নিয়ে জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, যেখানে অধিকাংশ সদস্য মত দিয়েছেন সেখানে একজনের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, যে প্রস্তাব উঠেছে তা আমরা গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবনের সদস্য করার বিষয়টি আগামী সভায় চূড়ান্ত করা হবে।