ভয়ংকর সেই সন্ত্রাসী হামলার বর্ণনা দিলেন পাইলট

আজ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ডিনস অ্যাভিনিউয়ের আল নূর মসজিদ ও লিনউড অ্যাভিনিউয়ের একটি মসজিদে বন্দুকধারীরা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

আজ শুক্রবার হওয়ায় নামায আদায় করতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার গেলেন স্থানীয় মসজিদে। যখন পৌঁছালেন তার মিনিট পাঁচ আগে ঘটে গেছে ভয়ানক এক ঘটনা। সন্ত্রাসী হামলায় মসজিদে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন। একটু আগে পৌঁছালে মৃতের তালিকায় নাম থাকতে পারতো কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারেরও। বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন তামিম-মুশফিকরা। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বেঁচে গেলেও ওই হামলায় শহীদ হয়েছেন বাংলাদেশর দুই জন।

আর এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা জানালেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি বলেন, ‘কোন দেশই চায় না যে এ ধরনের ঘটনা ঘটুক। আমরা খুবই লাকি। আমরা বাসে অনেকজন ছিলাম। অনেকজন বলতে ষোলো সতের জনের মতো। এর মধ্যে সৌম্য সরকারও ছিল। আমরা সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম।’

‘দুইজন খেলোয়াড় হোটেলে ছিল। বাকী সবাই ছিলাম। আমরা খুবই কাছে ছিলাম। আমরা মসজিদ বাস থেকে দেখছিলাম। এবং খুব বেশি হলে ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম। বলবো খুবই ভাগ্যবান। আর যদি তিন চার মিনিট আগেই চলে আসতাম তাহলে মসজিদের মধ্যে থাকতাম। তাতে বিশাল বড় একটা ঘটনা ঘটে যেত।’

এ সময় পাইলট আরও বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে আমরা ভিতরে ছিলাম না। বাইরে থেকে দেখেছি। আমরা ভিডিওর মতো দেখেছি। সিনেমার মধ্যে দেখলে যেমন দেখায় বাসের ভিতর বসে দেখেছি যে মানুষজন রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে। বেশ কিছু মানুষ বেরিয়ে আসতে পেরেছে। প্রায় আট দশ মিনিট বাসের মধ্যে মাথা নিচু করে ছিলাম। কোনো কারণে যদি গুলি এদিকেও ছুড়তে থাকে।’

‘যদি তারা বের হয়ে বাসের ভিতর এতো মানুষ দেখে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে এই ভেবে তখন সব খেলোয়াড়রা আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে মাঝের যে পেছনের দিকের গেট আছে সেটা দিয়ে চলে যাব। তারপর আমরা পার্ক দিয়ে পেছন দিয়ে চলে গিয়েছি।’

সন্ত্রাসীদের এ ঘটনায় বাতিল করা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। খুব শীগগিরই দেশে ফিরবেন ক্রিকেটাররা। কবে ফিরছেন তাও জানালেন পাইলট। তিনি বলেন, ‘এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে যতো দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা করা হবে। এখানে টিকেটের ব্যাপার আছে। এতোগুলো টিকেট এক সাথে, উনিশ জন যাবো এখান থেকে ঢাকায়।’

‘এছাড়া অন্যান্য সহায়ক কোচ আছে কেউ হয়তো উইন্ডিজ যাবে কেউ হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে। তাদের জন্য হয়তো একটা টিকেট পেয়ে যাবো খুব শীগগিরই। তবে এই উনিশ জনের জন্য খুব তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা চলছে। যেভাবেই হোক। আগে পিছে করেও যেমন সাত জন এ ফ্লাইটে, নয় জন পরেরটায়। যেভাবেই হোক চলে যেতে চাচ্ছি।’