‘মনে হচ্ছিল সিনেমা দেখছি, মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছিল রক্তাক্ত মানুষ’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছের একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন । অন্তত ৪৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে ড. আব্দুস সামাদ নামে একজন অধ্যাপকও রয়েছেন।এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা ওই মাঠে অনুশীলনে করছিলেন। অনুশীলন শেষে তারা মসজিদটিতে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। তবে তারা মসজিদে প্রবেশের আগেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। অবশ্য কারো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তামিম-মুশফিকরা। তাদের মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন খালেদ মাসুদ পাইলট। কথা বলার সময় বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের চোখে মুখে আতঙ্ক ফুটে ওঠে।

খালেদ মাসুদ বলেন, আর ৫-৭ মিনিট আগে হলে আমরা মসজিদেই থাকতাম। যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভয়ের। চাই না কখনও এরকম হোক। কেউ এর কবলে পড়ুক। আমরা অতি সৌভাগ্যবান।

বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের বলেন, বাসে ১৬-১৭ জন ছিলাম। এর মধ্যে সৌম্য সরকার ছিল। আমরা নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলাম। আমাদের দুজন সদস্য হোটেলেই থেকে গিয়েছিল। মসজিদের ৫০ গজের মধ্যে ছিলাম। বাস থেকে আমরা সব দেখতে পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন সিনেমা দেখছি। রক্তাক্ত হয়ে মানুষ মসজিদ ছেড়ে বেরিয়ে আসছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাও বাসের মধ্যে ৮-১০ মিনিট মাথা নিচু করে ছিলাম। যদি ওরা গুলি চালায় এ ভয়। পরে বুঝলাম এটা সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপ।