যে ভাবে সমাপ্তি ঘটে ১৭ মিনিটের সন্ত্রাসী হামলা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছের একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা ওই মাঠে অনুশীলনে করছিলেন। অনুশীলন শেষে তারা মসজিদটিতে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। তবে তারা মসজিদে প্রবেশের আগেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় রেডিও ধারাভাষ্যকার ব্রায়ান ওয়াডেল। স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে তিনি জানান, টিম হোটেলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে আমি কাঁদতে দেখেছি। তারা এখনো নিশ্চিত নন, ঘটনা কতদূর গড়াবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর গুলিতে ৩ বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধদের সার্বিক খোঁজখবর রাখছে নিউজিল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশন।

এদিকে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল-নূর মসজিদে পুরো হামলা লাইভ স্ট্রিম করে বন্দুকধারী অস্ট্রেলিয়ান ব্রেনটন ট্যারেন্ট। পুরো হামলার ১৭ মিনিট সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ স্ট্রিম করেন।

এ বিষয়ে ক্যান্টারবারি পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওই ভিডিও ফুটেজ সরিয়ে ফেলতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ক্রাইস্টচার্চের ওই ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও অনলাইনে ঘুরে ফিরছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা সবাই জোরালোভাবে আবেদন জানাবো তারা যেন ওই লিংক শেয়ার না করেন।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ব্রেনটন ডিনস অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত আল-নূর মসজিদে গাড়ি চালিয়ে আসেন ওই হামলাকারী। পরে তিনি কাছেই একটি জায়গায় গাড়ি পার্ক করে লাইভ স্ট্রিম শুরু করেন। তার গাড়ির সামনের সিটে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। এরপর তিনি নিজেকে অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত করে মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদের দরজায় থাকা এক ব্যক্তিকে গুলি করে।

মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটনের কাছে অন্তত একটি সেমি-অটো অস্ত্র এবং বেশ কয়েক ক্লিপ গুলি ছিল। সে মসজিদে ঢোকার পর এলোপাথারি গুলি চালাতে থাকে হামলাকারী। সে থেমে থেমে গুলি চালাতে থাকে। এসময় বেশ কয়েক দফায় সে বন্দুক রিলোড করেন।

এরপর সে মসজিদের সামনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যান। মসজিদে তিন মিনিট থাকার পর রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতে এলোমেলোভাবে গুলি চালায়। এমনটি গাড়িতে থাকা গুলি নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় গুলি ছোঁড়ে ব্রেনটন। এসময় তিনি বলেন, মনে হচ্ছে আজ আমরা কোনও পাখি পাবো না।

পরবর্তীতে সে আবারও আল-নূর মসজিদে প্রবেশ করে এবং জীবিত ব্যক্তিদের খুঁজে খুঁজে গুলি করেন। এবার মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তিনি রাস্তায় থাকা এক নারীকে ক্রমাগত গুলি করতে থাকেন।

এরপর সে তার গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এসময় একটি গাড়ি তার পথরোধ করার চেষ্টা করলে ব্রেনটন একটি শটগান থেকে বেশ কয়েকবার গুলি ছোড়ে। আর এভাবে ব্রেনটন যখন ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়, তখন সমাপ্তি ঘটে ১৭ মিনিট ব্যাপ্তির ওই ভিডিওটির।