শোভনের বক্তব্যে কাঁদলেন নেতাকর্মীরা

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হকে চৌধুরী শোভনের বক্তব্যে কাঁদলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। আজ ১২ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বক্তব্য রাখেন শোভন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য নুরসহ সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘মানুষকে দূরে ঠেলে দিয়ে লাভ নাই। কারণ, আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে চলতে হবে। সবাই তো আমাদের। কে আপন, কে পর? সবাই তো আপন।’

‘তুমি যদি মানুষকে পর করে দাও তাহলে তো হবে না। তোমাকে মনে রাখতে হবে তুমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী। ছাত্রলীগ কর্মীদের মন ছোট হতে পারে না। ছাত্রলীগ কর্মীদের মন অনেক বড় হতে হয়। এসময় নেতাকর্মীদের অনেকে উচ্চস্বরে কাঁদছিলেন।’

এ সময় ভিসির বাসভবন অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শোভন বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে আমি তোমাদের বলতেসি, তোমরা ভিসির বাসার সামনে থেকে সরে যাও। তোমরা কার জন্য করতেসো, ছাত্রলীগের জন্যই তো করতোসো, আমাদের জন্যই তো, আমার জন্যই তো করতেসো, আমি এইখানে বলতেসি। তোমরা আমার কথা মানবা না? আমি তো ব্যক্তি না, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, আমার একটা জায়গা আছে, আমার জায়গাটা তোমরা নষ্ট করো না।’

তিনি আরও বলে, ‘তোমাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের শুধু না, সারা দেশের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করি। আমরা সেই সব ছাত্রদের দেখে রাখবো, এটা আমাদের দায়িত্ব। দায়বোধের জায়গা থেকে আমরা এটা করবো বলেও যোগ করেন তিনি।

এ সময় শোভন বলেন, ‘আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি তোমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই জায়গা ছেড়ে দিবা। যদি না যাও, তাহলে আমি বুঝবো তোমরা আমাকে মানো না।’

ছাত্রলীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘অনেক সময় অনেক কিছুর কারণে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য দেশের ভালোর জন্য নিজেকে বলি দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য আমরা সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। নুরও আমাদের সঙ্গে কাজ করবে।’

এদিকে শোভন কথা বলার সময় নেতাকর্মীদের অনেকে উচ্চস্বরে কাঁদছিলেন। সে সময় এ আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।