সাহস থাকা ভালো, কিন্তু সচেতন থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নব-নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কে ভোট দিল কে দিল না— এটা নয়। এসব মাথায় রাখা যাবে না। যে নির্বাচিত হয়েছে সে সব শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করবে। কে হলো কে হলো না সেটা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‌’আমাদের ভিপি পদে শোভন জয় লাভ করে নাই। আমার কাছে আসছে, আমি বলেছি— যে জিতেছে তাকে অভিনন্দন জানাতে। ধন্যবাদ জানাই শোভনকে। আমি তাদের পরিবারের সবাইকে চিনি। এটাই হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতিতে হারজিত তো থাকবেই।’

এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন আমরাও করে এসেছি। আন্দোলনে সহিংসতা চাই না। সাহস থাকা ভালো। কিন্তু পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ বছর ডাকসু নির্বাচন বন্ধ ছিল। আমরা আসলে নেতৃত্ব খুঁজি। এই নেতৃত্ব ছাত্র জীবন থেকে গড়ে উঠতে হবে।’

এ সময় ২০০৮ থেকে ২০১৮ এই দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অস্ত্রের ঝনঝনানি হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘এক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। গুলি-বোমা ছিল প্রতিদিনকার ব্যাপার। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে এক দলের নেতাকর্মীরা অন্য দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করত। আমরা ক্ষমতায় এসে অস্ত্রের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের হাতে কলম তুলে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমল থেকে ডাকসু নির্বাচন বন্ধ ছিল। ডাকসু নির্বাচনটা চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের জন্য। আমরা সেটা করতে পেরেছি। তাছাড়া ডাকসু নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়, এটাও সবসময় বলেছি। ছাত্রছাত্রীরা যা চাইবে, তাই হবে। ভোট কে কত পেল, সেটা বড় নয়। যারা জয়লাভ করেছে সবার কিন্তু এই বিবেচনা রাখতে হবে কে ভোট দিল কে দিল না সেটা বিষয় নয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজছি। সেটা ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হলে ভালো। আমরা স্কুলজীবন থেকেই শুরু করেছি ছোটবেলা থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা থাকুক।’