সিল মারা বস্তাভর্তি ব্যালট, হল প্রভোস্ট বরখাস্ত

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল সংসদের নির্বাচন। আজ সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৮ হলে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫০৮টি বুথ। ৪২ হাজার ৯২৩ ভোটারের জন্য এসব বুথ তৈরি করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টায় এই ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট শুরু হয়নি। শিক্ষার্থী ভোটারদের দাবি খালি ব্যালট বাক্স দেখানো না হলে ভোট শুরু হবে না।

এদিকে ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মারা এক বস্তা ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হল। ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই রাতের আঁধারে জাল ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানিকে অবরোধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিক্ষোভকারীরা জানান, সকালে খালি বাক্স দেখাতে বললে- গড়িমসি করায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে রিডিং রুম থেকে ছাত্রলীগ প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট দেয়া ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়।

প্রোভিসি ও প্রক্টর দুজনেই আগাম জাল ভোটের সতত্যা পাওয়া গেছে বলে স্বীকার করেছেন। তারা বিষয়টিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিতেরও ঘোষণা দেন।

এদিকে কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার হওয়ার পর বরখাস্ত করা হয়েছে হল প্রভোস্ট শবনম জাহানকে। এই হলে নতুন প্রভোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিকে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে ছাত্রদলের প্রার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন প্রার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। গেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোটা প্রশাসনের হওয়ার কথা থাকলেও আমরা দেখছি পুরো নির্বাচনের পরিবেশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে।’ আজ সকালে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।