হামলায় বেঁচে যাওয়া নারী খুজছেন সেই নারী গারী চালককে

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সেদিন শিশু সন্তানকে নিয়ে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মাজদা হাজি নামের এক নারী। সেদিন তার চোখের সামনেই ঘাতক হত্যা করেছিল তার বাবা ও বন্ধুদের। প্রতিবেশী মুসলিমরা যখন গুলিতে প্রান হারাচ্ছিল তখন বন্দুকের গুলি এড়িয়ে কাঁধে ছোট্ট ছেলেকে তুলে নিয়ে কোনো রকমে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন তিনি। ছেলেকে নিয়ে তিনি যখন দৌড় শুরু করেন, তখন বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় ছেলে-সহ প্রাণে বেঁচে যান মাজদা।

সেখানে দৌড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসার পর রাস্তায় একটি গাড়ি দেখতে পান তিনি। সেই গাড়ির চালকের আসনে বসা ছিলেন একজন নারী। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরেছিলেন ওই নারী চালক।

তিনি গাড়ির দরজা খুলে দিলে উঠে বসেন মাজদা। পরে সেখান থেকে আরো কয়েকজন নারীকে নিয়ে তিনি দ্রুত সটকে পড়েন। এখন ওই গাড়ি চালক নারীকে মরিয়া হয়ে খুঁজছেন মৃত্যুমুখ থেকে বেঁচে ফেরা মাজদা। তাকে একবারের জন্যে হলেও ধন্যবাদ জানাতে চান তিনি। কারণ পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে মসজিদের সামনে থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন ওই নারী চালক।

৩০-৪০ বছর বয়সী এক নারী একটি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে। মাজদা ওই গাড়ির ভেতরে লাফিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি গাড়ির ভেতর উঠে বসেছিলাম এবং তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী ঘটেছে? এমন সময়ও কিছু মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল। সম্ভবত তাদের জানালা বন্ধ ছিল, যে কারণে বাইরে কী ঘটছে সেটা তারা দেখতে পায়নি।’

‘আমি গাড়িতে উঠে কান্না শুরু করি। পরে ওই নারী চালক গাড়ির বাইরে বেরিয়ে মানুষকে থামতে বলেন।’ ওই নারী চালকের পরনে কালো পোশাক ছিল। পোশাকে একটি খাবারের কোম্পানির লোগো ছিল। পরে সড়কের অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা আরো দু’জন মুসলিম নারীকে নিয়ে তিনি গাড়ি দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন।