চলচ্চিত্রকে সৎ মায়ের সন্তানের মত পালন করা হচ্ছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

বর্তমানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা খুবই হতাশাজনক। এ থেকে উত্তরণে অনেকে অনেক প্রত্যাশার গল্প শুনাচ্ছেন। কিন্তু কোন গল্পই যেন কাজে আসছে না। চলচ্চিত্র উন্নয়নের জন্য ঠিক কোন জায়গাটা নিয়ে ভাবা উচিত, কতটা ভাবা হচ্ছে? এসব নিয়ে কথা বললেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

এ ব্যাপারে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘চিরজীবন দেখে আসছি চলচ্চিত্রকে মনে করা হয় সৎ মায়ের সন্তান। চলচ্চিত্র তৈরির জন্য এদেশের আবহাওয়া যখন অনুকূল ছিল না সেই তখন থেকে (পাকিস্তান আমল) এটা হয়ে আসছে।’

‘এরপর যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান চলচ্চিত্রের দিকে নজর দেন, তারপর সুদিন আসতে শুরু করে। তাই বলতে হয়, একমাত্র বঙ্গবন্ধু ছাড়া কেউ ভালোবাসেনি চলচ্চিত্রকে। তিনি ছাড়া অন্য কেউ চলচ্চিত্র লালন করেছেন, এটা পাইনি।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পর যারাই মন্ত্রী হয়ে এসেছেন আমি কথা বলেছি তাদের সঙ্গে। আমার মনে হয়নি কেউ চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে কিছু করেছেন। যোগ করেন এই নায়ক।’

এ সময় ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘এর আগে যিনি মন্ত্রী ছিলেন (চলচ্চিত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত) তাকে একটি টক শো-তে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এমন কোনো পরিকল্পনা করেছেন? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি অবাক হয়েছিলেন। উনি বুঝতেই পারেননি আমি এমন একটা প্রশ্ন করব।’

তিনি বলেন, ‘যারা চলচ্চিত্রের দায়িত্বে থেকে মন্ত্রিত্ব পান তাদের কোনো পরিকল্পনাই থাকে না। যদি কোনো পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটার উন্নতি কীভাবে হবে? এজন্য সবসময় আমার কাছে মনে হয়, চলচ্চিত্রকে সৎ মায়ের সন্তানের মতো লালন পালন করা হচ্ছে।’

নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মনে করেন, বাংলাদেশে যথেষ্ট ভালো শিল্পী, নির্মাতা আছেন। যদি তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করা যায় তাহলেই অবশ্যই চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়ানো খুব দরকার। কারণ, চলচ্চিত্র না থাকলে আমরা থাকবো না। আমার সন্তান কেমন হবে এটা নির্ভর করবে আমি কীভাবে তার লালন পালন করছি। চলচ্চিত্রও তেমনি লালন করতে হয়।’

এদিকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সমাজসেবা পেয়েছেন একুশে পদকও। তাছাড়া নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বর্তমানে এ আন্দোলন নিয়েই ব্যস্ত আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।