জাহিদুরের শপথ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন গয়েশ্বর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা মো. জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে জাহিদুর শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টা সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শপথ পড়ান।

বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ বলেন, জাহিদুর রহমান স্পিকারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন। তার শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শপথ নেবেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানিয়ে স্পিকার শিরীর শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৮ জনপ্রতিনিধি জয়ী হন। ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে ফল বর্জন করে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রতিনিধি সংসদে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত না মেনে আজ শপথ নিলেন বিএনপির জাহিদ।

শপথ নেয়ার পর জাহিদুর রহমান বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছি। দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে জেনেও শপথ নিয়েছি। তবে দল বহিষ্কার করলেও আমি দলে আছি।

তিনি বলেন, ‘আমি শপথ নেয়ার জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি, কথা বলেছি; কিন্তু সম্মতি পাইনি। তারা কোনোভাবেই সম্মতি দেননি। দলের এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কেউ শপথ নেবে না। ’

এদিকে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে তারা ‘গণদুশমন’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের ব্যানারে এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত, দলের আদর্শ এবং নেত্রীকে জেলখানায় রেখে কেউ যদি শপথ নিয়ে থাকে বা ভবিষ্যতে নেয়, তারা জাতীয়তাবাদী দলের শক্তির সঙ্গে চলার যোগ্যতা রাখে না। তারা হলো গণদুশমন এবং জনগণই তাদের বিচার সময়মতো করবে।’

তিনি বলেন,‘সেখানে ভোট কারচুপি হয়েছে। সরকার জনগণের সঙ্গে থাকতে পারেন নাই,কারণ জনগণ মনে করে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। সে ক্ষেত্রে বিএনপি থেকে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি শপথ নিয়েছেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে এটি সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে গেছে যে বিএনপি এবারের সংসদে যোগ দেবে না। সে ক্ষেত্রে আজ সংসদে যিনি যোগ দিয়েছেন বা বাকি যারা সংসদে যাবেন তারা ব্যক্তিগত স্বার্থেই সংসদে যোগ দেবেন। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন। তাই তাকে রেখে সংসদে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সে ক্ষেত্রে শপথ নেওয়াটা একটা প্রতারণা।’

তিনি জাহিদুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন,‘সিদ্ধান্তের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে। জনগণও তাকে ক্ষমা করবে না। দল থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে (পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল) তিন সাবেক সাংসদকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান নির্বাচিত হন। রংপুর বিভাগের মধ্যে একমাত্র তিনিই বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।

১৯৯১ সাল থেকে জাহিদুর রহমান নির্বাচন করছেন। তবে দীর্ঘ ২৭ বছর পর মানুষের সহানুভূতির কারণে তিনি জয়ী হয়েছেন। তিনি (ধানের শীষ) ৮৮ হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক। তিনি ৮৪ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। এ ছাড়া মহাজোটের প্রার্থী মো. ইয়াসিন আলী (নৌকা) ৩৮ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ (লাঙ্গল) ২৭ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।