নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার লৌমহর্ষ ঘটনার বর্ণনা দিল নূর উদ্দিন

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিক্ষা দিতে যায় নুসরাত। এরপর সেসময় তাকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আর সেখানে ৫দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত বুধবার রাতে মারা যান নুসরাত।

নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়ার আগের দিন ৫ এপ্রিল কারাগারে থাকা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করেন তার ঘনিষ্ঠজন নুর উদ্দিনসহ পাঁচজন। সেখানেই সিরাজ নির্দেশনা দেন নুসরাতকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার জন্য। তার কথা মতই তার বাকি সহযোগীরা নুসরাতকে সেদিন ডেকে নিয়ে গিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায় মামলার তদন্তে থাকা সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর উপ-মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার নুসরাতকে হত্যা বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, নুসরাতকে আগুন দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত ছিল ছয় জন। পুরো ঘটনার সঙ্গে ১৩ জন জড়িত ছিল। এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নূর উদ্দিন জানায়, সিরাজের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে যান নূর উদ্দিন ও শাহাদাত। সেখানে তাদের নুসরাতকে শায়েস্তা করার নির্দেশ দেন সিরাজ। নির্দেশ অনুযায়ী শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে নূর উদ্দিন জানায়, আলেম সমাজকে অপদস্থ করার ‘শাস্তি’ হিসেবে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয় প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নূর উদ্দিনসহ অন্যরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই ছাত্রীর মাধ্যমে তিনটি বোরকা ও কেরোসিন তেল আনা হয়। ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে বলে শম্পা ওরফে চম্পা নামে এক ছাত্রীর দেয়া সংবাদে ভবনের চার তলায় যান নুসরাত। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে ছিলেন শাহাদাতসহ চারজন। তারা সেখানে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে ওড়না দিয়ে বেঁধে আগুন দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়।

নূর উদ্দিন জানায়, এলাকায় সিরাজ উদ দৌলা বাহিনী অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় পুড়িয়ে মারার ঘটনা সামাল দিতে পারবে এমন বিশ্বাস ছিল তাদের।

পিবিআই জানিয়েছে, আগুন দেয়ার সময় বোরকা পরা চারজনের মধ্যে দু’জন পুরুষ ছিল। তবে ঘটনা চাপা দিতে গভর্নিং বডির কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা স্পষ্ট করে জানাননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এঘটনায় অন্তত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পিবিআই। নূরের দেয়া তথ্য থেকে এদের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নুসরাত হত্যার আসামিরা হলেন, প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদ দৌলা, ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম মাকসুদ, ছাত্র শাহদাৎ হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের।