নুসরাতকে হত্যার লৌমহর্ষ ঘটনার বিবরণ দিল সহপাঠী মণি

গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। আর মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় বোরকা ও নেকাব পরা চারজন তাকে বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়।

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হামলায় সরাসরি জড়িত চারজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে জবানবন্দি দিয়েছে পাঁচজন। আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের রিমান্ড চলছে।

এদিকে, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তার সহপাঠী কামরুন নাহার মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেছে পিবিআই।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পরিদর্শনে যান পিবিআইয়ের একটি দল।

বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, মণিকে বুধবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মণিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে গিয়ে দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে। পরে পিবিআই দলটি সোনাগাজী মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে যেখানে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়, সেখানে যায়। কিভাবে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিবরণ দিয়েছে মণি।

তিনি আর ও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মণির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পুরুষদের গায়ে থাকা বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।