নুসরাতের পুড়ে যাওয়া শরীরের ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন ৩ নারী

অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর সেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফিয়ার নিথর শরীরে হাত বুলিয়ে শেষ স্নেহ আর ভালোবাসা দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গের তিন নারী।

আজ ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঢামেক মর্গে লাশের ময়না তদন্তের পর নুসরাতের শরীরে স্নেহের পরশ বুলিয়ে গোসল দিয়েছেন চাঁন বিবি, মনি বেগম ও আনসারী বেগম নামের এই তিন নারী।

আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বাবা ও স্বজনদের কাছে নুসরাতের লাশ হস্তান্তরের পর সংবাদমাধ্যমের একান্ত এক সাক্ষাৎকারে এই তিন নারী জানালেন কিভাবে তারা শেষ গোসল দিয়েছেন নুসরাতকে। নুসরাতের মায়াবী চোখ-মুখ আর চাহনীর বর্ণনা দিতে গিয়ে বারে বারে আঁচলে চোখ মুচছিলেন চাঁন বিবি।

এ সময় চাঁন বিবি বলেন, ‘এমন নির্দয় মানুষ পৃথিবীতে আছে? এমন নিষ্পাপ মেয়ের শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা কেউ করতে পারে?’

মনি বেগম বলেন, ‘নুসরাতের পুড়ে যাওয়া শরীরের কথা। বুক এবং গলার নিচ থেকে পুরো শরীরই পুড়ে গেছে। গলার নিচের দিকেই ক্ষত ছিল বেশি। পিঠের কিছু অংশও পুড়ে ক্ষত হয়েছে।’

এ সময় আনসারী বেগম বলেন, ‘ আহ! কি সুন্দর মেয়ে! চোখে মুখে যেন মায়া লেগে আছে নুসরাতের। পুরো শরীরে পোড়া আর ক্ষতের চিহ্ন থাকলেও মুখে কোনো আচড়ও লাগেনি। মনে হয়েছে যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে নুসরাত।’

এ সময় তারা আরও জানান, আমরা পেপার পত্রিকা পড়ি না। তবে ডাক্তার স্যার আর সিস্টার আপাদের কাছে নুসরাত সম্পর্কে আগে থেকেই শুনেছি। নুসরাতের জন্য দোয়াও করেছি। আল্লাহর কাছে বলেছি, মেয়েটি যেন বেঁচে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চলেই গেল নুসরাত।’