নুসরাতের মামলা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছে স্বজনসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা

মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পারিবারিক শোকে যোগ দিচ্ছেন মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের স্বজনরা। তারা নুসরাতের পারিবারিক লোকজন ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে গ্রেফতারকৃত এবং অভিযুক্তরা নির্দোষ বলে দাবি করছেন।

তাছাড়া মামলা প্রত্যাহার করতে নানাভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভিন্ন ভাবে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুসরাতের স্বজনরা।

এদিকে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, মামলায় গ্রেফতার হওয়া নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীমসহ অন্যান্য আসামীদের বিভিন্ন দূরসম্পর্কের আত্মীয় স্বজনরা নিয়মিত এখানে এসে কান্নাকাটি করে তাদের স্বজন নির্দোষ, এসব বিষয় বলছেন। তারা নিয়মিত এখানে আসা যাওয়া করলেও আমরা তাদেরকে কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত।

এদিকে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন জড়িত থাকতে পারে বলে খবর প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। কিন্তু এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার ব্যাপারে মুখ খুলছেন না কেউ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিরাজ উদ দৌলার হাতে নুসরাতের যৌন হয়রানির বিষয়টি শুরুতেই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই রুহুল আমীন। গত শুক্রবার বিকেলে নুসরাতের বাড়িতে পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আসেন রুহুল আমীন। এরপর রাত ৯টায় ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারীর সাথে রাত ৯টায় আবার আসেন।

এদিকে নুসরাতকে হত্যার ঘটনায় বিচার প্রার্থীদের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের বাড়িতে রুহুল আমীনের নিয়মিত আসা যাওয়ার ব্যাপারটি বিচার কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ওই বাড়িতে গ্রেফতারকৃত ও অভিযুক্তদের আত্মীয়দের আনাগোনা বন্ধ করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তারা।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল ফেনী জেলার সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন নুসরাত।

এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকের লালসার আগুনে পুড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ এপ্রিল বুধবার মারা যান নুসরাত। ঘটনায় অভিযুক্তদের ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য অপরাধীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে জানা যায়।