নুসরাতের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর সেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় রাফির মৃত্যুর খবর জেনেই গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি নুসরাতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে নুসরাতের চিকিৎসায় দায়িত্বে থাকা বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের চিকিৎসার খোঁজখবর রেখেছেন। মারা যাওয়ার আগেও তার চিকিৎসার ব্যাপারে কথা হয়েছিল।

এর আগে গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে।

এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান।

এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন নুসরাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

কিন্তু তার অবস্থা সিঙ্গাপুরে নেয়ার মতো ছিলো না। তবে সিঙ্গাপুরের ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসা চলছিলো নুসরাতে। মঙ্গলবার লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় নুসরাতের অস্ত্রপচার করা হয়।