পরীক্ষাকেন্দ্রে দগ্ধ ছাত্রীর দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর এক মাদ্রাসার ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

এদিকে, আগুন ধরিয়ে দেয়া সেই ছাত্রীর জীবন শঙ্কায় রয়েছে। তার ৭৫ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা অপরিবর্তিত। তার সুস্থ হয়ে ওঠাটা কঠিন।

রবিবার (৭ এপ্রিল) সকালে তার অবস্থা সম্পর্কে জানান বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল।

তিনি বলেন, তার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। শরীরের তিন-চতুর্থাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালিও পুড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিষয়টি নিয়ে সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ‘মেয়েটির শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ব্যাপারে চিকিৎসকরা এখনও কিছু বলতে পারছে না। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’

এদিকে, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্মাহত হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ওই ছাত্রীর সব ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বক ডা. সামন্তলাল সেন আজ রোববার বিকেলে এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করতে যান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনীর ওই ছাত্রীর সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।