রাস্তার পাশে লাশ, রহস্য উন্মোচনে মরিয়া পুলিশ

প্রতিকী

নোমান মাহমুদ, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশ থেকে ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত এক অটোরিক্সা চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) গভীর রাতে ভাকুর্তা ইউনিয়নের মশুরীখোলা এলাকার একটি ইট ভাটার সামনে থেকে মতিউর রহমান (২৭) নামে নিহত ঐ অটোরিক্সা চালকের লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মতিউর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানাধীন দায়নার পাড় এলাকার আঃ মজিদের ছেলে। সে তার দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় বসবাস করতো।

এদিকে হতদরিদ্র ঐ রিকসা চালককে খুনের ঘটনায় হতবিহ্বল নিহতের পরিবার। তাদের দাবী, অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা নিহত মতিউর রহমানের তেমন কোন শত্রুর কথা পরিবারের জানা নেই, যারা তাকে হত্যা করতে পারে।

অন্যদিকে পুলিশ সুত্র বলছে, নিহতের লাশের পাশেই পাওয়া যায় তার অটোরিক্সাটি। পকেটেও পাওয়া যায় ৬৪০ টাকা। হত্যাকান্ডটি যে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়, সে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে। তবে কেন হত্যা করা হলো একজন দরিদ্র রিকসা চালককে সেই বিষয়টিও পরিষ্কার নয় কারোও কাছে। লাশের কাছেও পাওয়া যায়নি এমন কোন ক্লু, যা রহস্যাবৃত এই হত্যাকান্ডটির রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করতে পারে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।

এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম জানান, “এখন পর্যন্ত হত্যাকান্ডের সঠিক কারন জানা যায়নি, এছাড়া কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করলো, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, আশা করি খুব শীঘ্রই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ ও ২২ জানুয়ারি একই রকমভাবে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার ছোট কালামপুর এবং কুল্লা ইউনিয়নের সিতিপল্লি এলাকায় মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। সেসময়ও হত্যাকান্ড দুটিতে নিহত দুজনেই ছিলেন দরিদ্র রিকসা চালক। এছাড়াও ঐ দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রথমদিকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংগঠিত বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে নিহতদের রিকসা ও সাথে থাকা টাকা-পয়সা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি রহস্যাবৃত হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ঐ দুটি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়নি। এক পর্যায়ে ঐ দুটি ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তের জন্য ভীন্ন দুটি সংস্থায় হস্তান্তর করা হয়।