র‍্যাবের অভিযানের মধ্যেই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ আগুন

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় জঙ্গি আস্তানায় কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছে। তিনটি পা দেখা গেছে। এখনও আস্তানা আগুনে জ্বলছে। বাংলাদেশে কেউ জঙ্গিবাদে জড়ালে ছাড় দেয়া হবে না।

আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) আস্তানা পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

এদিকে, ‘জঙ্গি আস্তানা’য় বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে গেছে। আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৯ এপ্রিল) ভোরেই জঙ্গিরা ওই টিনশেড বাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর পর এর চাল ও বেড়া উড়ে যায়। ১১টার দিকে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। তখন ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেন।

এর আগে র‌্যাবের এডিজি (অপারেশন) কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘বিস্ফোরণে জঙ্গিদের ছিন্ন-ভিন্ন দেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সুইপিংকালে তা দেখতে পেয়েছে। কমপক্ষে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।’

জঙ্গি আস্তানা খুব কাছ থেকে পরিদর্শন করে ফিরে তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভেতরে অবিস্ফোরিত বোমা ও আইইডি (ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) দেখা গেছে। সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। বিস্ফোরণে টিনসেড ভবনের টিনের চাল ও বেড়া উড়ে গেছে। টিনসেড ভবনটির পেছনে খাল। খালপাড়ে ঝোপজঙ্গল। সেখানেও উড়ে যাওয়া টিনের টুকরো, শরীরের অঙ্গ দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ওই টিনশেড ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর অভিযানে নামে র‍্যাব। শুরুতেই ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর ভেতর থেকে র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে অভিযানে যোগ দেয় র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও স্পেশাল ফোর্স।

বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার (এসপি) মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, বাড়ির মালিক আব্দুল ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি এখন ঢাকার বাইরে। তিনি জানিয়েছেন, দেড়মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নেয় দুইজন ভ্যান চালক। এ মাসে তাদের ছেড়ে দেয়ার কথা ছিল। তারা ভ্যান চালানোর আড়ালে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।