শপথ গ্রহণের পেছনে বড় যুক্তি দেখালেন মির্জা ফখরুল

গতকাল সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তে একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির চারজন বিজয়ী শপথ গ্রহণ করেছেন। এর পরই প্রশ্ন উঠেছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তাহলে কি শপথ নিচ্ছেন?

এ বিষয় নিয়েই আজ ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুলেছেন বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে, আমরা মনে করি যে সেটা কোনো নির্বাচনই ছিল না। ২৯ ডিসেম্বর রাতেই নির্বাচনের ভোট চুরি হয়ে গেছে। পুরোপুরিভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে শাসকদল যারা অর্থাৎ যারা রাষ্ট্রক্ষমতা ধরেছিল তা তাদের দিকে নিয়ে গেছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছে। তখন জনগণের যে ক্ষোভ ছিল সেই ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা সংসদে শপথ গ্রহণ করবো না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তবে একটি কথা আমরা বিশ্বাস করি, কোনো সিদ্ধান্তই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকবে এটা সবসময় সঠিক নয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে যে রাজনীতি চলছে এবং সারা বিশ্বের রাজনীতির প্রেক্ষাপট সব কিছুকে প্রেক্ষিতে নিয়ে আমরা এ কথাগুলো বলেছি। আমরা বক্তব্য স্পষ্ট করে বলেছি যে ন্যূনতম যে সুযোগটুকু আছে সংসদে গিয়ে কথা বলার, সেই সুযোগটুকু আমরা কাজে লাগানোর জন্য সংসদে যাচ্ছি।’

এ সময় বিষয়টা নিয়ে অনেকেই অনেক রকম কথা বলছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমার মনে হয় দেশের যারা চিন্তাবিদ আছেন তারা চিন্তা করছেন এই সিদ্ধান্তটা আমাদের জন্য খুব খারাপ সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না আমরা। আমাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় যুক্তি যেটা সেটা হলো, আমাদের সামান্যতম যে সুযোগটুকু রয়েছে, যে স্পেস রয়েছে সেটাকে ব্যবহার করা।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রেক্ষিতে আমরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আমরা বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’

এ সময় সাংবাদিকদের একটি চিরকুট দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে আছে। এত অস্থির কেন আপনারা? আমরা গতবার আমাদের সংবাদ বিবরণী সম্মেলনে স্পষ্ট করে যা বলেছি, আমি ধন্যবাদ জানাই ঠিক যা বলেছি আপনারা তা উপস্থাপন করেছেন আপনাদের পত্রিকায়, আপনাদের চ্যানেলে। একই সঙ্গে আমি খুব অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি। কিছু কিছু পত্রিকা, কিছু কিছু চ্যানেল সেটাকে আবার একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেটা আমরা বলিনি, যেটা আমরা করিনি।’

তিনি বলেন, ‘খুব জোরেশোরে চ্যানেল থেকে বলা হচ্ছে, আমি (মির্জা ফখরুল) ব্যক্তিগতভাবে বগুড়া থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম, আমি শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছি, আবেদন করেছি, যা একটি ভয়াবহ মিথ্যা। সোজাসাপ্টা ও সরল। আমি কোনো চিঠি দেইনি, কোনো সময় চাইনি। আমি বোঝাতে পেরেছি?’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন আপনারা অনেকে প্রশ্ন করেন যে, আপনার দলের সিদ্ধান্ত হলো আপনি শপথ নিলেন না কেন? এটাও আমার দলের সিদ্ধান্ত।’