সেই অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মিছিল

না ফেরার দেশে চলে গেলেন গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর সেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার পক্ষে এলাকায় একাধিক মিছিল হয়েছে।

আজ ১০ এপ্রিল বুধবার দুপুরে ওই মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বেশ কিছু লোকজন এ মিছিলে যোগ দেন। মিছিলের ব্যানারে সিরাজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে অভিহিত করে অচিরেই তার মুক্তি দাবি করা হয়।

এদিকে আজ জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরফ উদ্দিনের আদালতে অধ্যক্ষ সিরাজকে হাজির করা হলে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রিন্সিপাল ছাড়াও মাদ্রাসার শিক্ষক আফছার উদ্দিন ও মাদ্রাসার ছাত্র আরিফকেও আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত প্রিন্সিপালের সাত দিন এবং বাকি দুজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

এর আগে গত শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। এ সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে—এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যায় সে।

সেখানে বোরকা পরা চার থেকে পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে আনা শ্লীলতাহানির মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এদিকে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান গত সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সম্পূরক এজাহার দাখিল করেছেন।

এর আগে নুসরাতের মা বাদী হয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর পুলিশ তাকে ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন তিনি।