৩ মণ ধানের দামে ১ কেজি ইলিশ

বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে ইলিশের বাজার জমে উঠেছে। আর মাত্র দুইদিন পরেই বাঙালির ঐতিহ্যময় উৎসব পহেলা বৈশাখ। একদিকে চাহিদা বৃদ্ধি ও অন্যদিকে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় বাজারগুলোতে আকাশছোঁয়া দাম।

কিন্তু পহেলা বৈশাখ মানেই সকালে উঠে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাজা খাওয়া। এদিকে বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ব্যাপকভাবে দাম বাড়ছে ইলিশের।

এদিকে দেশেরে উত্তরের জেলা নীলফামারীর বাজারগুলোতে এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। যেখানে একজন দিনমজুরের আয় দিনে তিনশ টাকা। এক কেজি ইলিশ কিনতে হলে ছয় দিনের মজুরির টাকা খরচ করতে হবে তাকে।

আবার মণ প্রতি ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা দরে। ফলে এক কেজি ইলিশ কিনতে হলে একজন কৃষককে তিন মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এর জন্য কৃষক ও দিনমজুরদের পক্ষে নববর্ষের দিনে ইলিশ খাওয়াটা অনেকটাই অম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা সদর উপজেলার বাসীন্দা দিনমজুর আক্কাস নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘কাজ করে দিনে একবেলা নাস্তা ও ৩০০ টাকা হাজিরা পাই। বাজারে জাট্কা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। আর এক কেজির ওপরের সাইজের ইলিশগুলো বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায়। আমার আয়ের তিনশ টাকা দিয়ে সাত সদস্যের পরিবার চালায়। ইলিশ মাছ কেনার উপায় নেই। আমাদের আবার বৈশাখ আছে নাকি?’

এদিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আগ দিয়ে নীলফামারীর গ্রামে-গঞ্জে মাছের বাজারগুলোতে জমজমাট ব্যবসা চলছে। বিশেষ করে ইলিশের। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই বৃত্তবানরা এই মাছ কিনতে পারলেও দিনমজুর, কৃষক ও পেশাজীবীরা তা কিনতে পারছে না। বর্তমানে এক কেজি ইলিশ কেনার জন্য ২ থেকে ৩ মণ ধান বিক্রি করতে হয় কৃষককে।

এদিকে বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়, আর প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) এক হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ফলে একজন কৃষককে এক কেজি ইলিশ কিনতে দরকার হচ্ছে তিন মণ ধান।