ওয়ানডে বিশ্বকাপে হ্যাট্রিক করেছেন যে ৮ বোলার

ক্রিকেটে একজন বোলারের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো হ্যাট্রিক করা। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা যখন এক ইনিংসে ৫ উইকেট কে ১টি সেঞ্চুরির সমমান ধরেন অন্যদিকে এক ইনিংসে ১টি হ্যাট্রিককে কোন কিছুর সমমান ধরা হয় না। দৃড়তা, সঠিকতা,দক্ষতা ও অপূর্ব বোলিংয়ের মাধ্যমেই কেবল পরপর তিন বলে তিন উইকেট নেওয়া সম্ভব হয়। আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে যারা এক ইনিংসে পরপর তিন বলে তিনটি উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

১. চেতন শর্মা, ভারত ( ১৯৮৭) : ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের অন্য আট দশটি বিশ্বকাপ ম্যাচের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই ম্যাচ। উক্ত ম্যাচে কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ ও এওয়েন চ্যাটফিল্ড কে পরপর তিন বলে তিনজনকে সাজঘরে ফিরিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ও ভারতের ১ম ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাট্রিককে আলিঙ্গন করেন এই ক্রিকেটার।

২.সাকলাইন মুশতাক, পাকিস্তান (১৯৯৯) : ইংল্যান্ডে অনুষ্টিত হওয়া “৯৯য়ের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। সবচেয়ে মজার যে বিষয় সেটা হলো জিম্বাবুয়ে দলের শেষ তিনজনকে তিনি আউট করেছিলেন যাদেরকে টেইল-এন্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। হেনরি অলঙ্গা, এডাম হাকলে ও পম্মি বাংগুয়া এই তিনজন ব্যাটসম্যান ছিলেন সাকলাইনের হ্যাট্রিকের শিকার।

৩. চামিন্দা ভাস, শ্রীলঙ্কা (২০০৩) : শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের এই ম্যাচটি ছিল উক্ত বিশ্বকাপের দশম ম্যাচ। শ্রীলঙ্কা টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ইনিংসের প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলেই তার আউটের শিকার হন বাংলাদেশি ৩ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ইনিংসের প্রথম ওভারেই পরপর তিন বলে হ্যাট্রিক করেন। তার আউটের শিকার বাংলাদেশি তিন ব্যাটসম্যান হলেন, হান্নান সরকার, মোহাম্মদ আশরাফুল ও এহসানুল হক।

৪. ব্রেট লি, অস্ট্রেলিয়া ( ২০০৩) : বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ হ্যাট্রিক আসে কেনিয়া বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে, স্পিডস্টার ব্রেট লির মাধ্যমে। কেনেডি ওটিয়েনো, ব্রিজাল পাটেল ও ডেভিড ওবুয়াকে আউট করার মাধ্যমে তিনি হ্যাট্রিক লাভ করেন।

৫. লাসিথ মালিঙ্গা,শ্রীলঙ্কা (২০০৭, ২০১১) : দক্ষিন আফ্রিকাকে দেওয়া ২১০ রানের টার্গেটে ঐ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা না জিতলেও মালিঙ্গা ঠিকই রেকর্ডবুকে তার নাম লিখান। এক ওভারে পরপর চার বলে শন পোলক, এনড্রিউ হাল, জ্যাকস ক্যালিস ও মখয়া টিনিকে উইকেট করে বিশ্বকাপের হ্যাট্রিক ম্যানদের তালিকায় তার নাম লিখান এই ফাস্ট বোলার। এছাড়াও তিনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। হ্যাট্রিকের শিকার এই তিন ব্যাটসম্যান হলেন, পিটার অঙ্গন্ডন, শেম নচে ও এলিজাহ ওটেনিও।

৬. কেমার রোচ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ( ২০১১) : টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। ফলে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৩৩০ রানের পাহারসম লক্ষ্য পায় ডাচরা। উক্ত ম্যাচে পিটার সিলার, বার্নারড লুটস,বেনেড ওয়েস্টিককে পরপর তিন বলে আউট করে প্রথম কোন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখান এই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার।

৭.স্টিভেন ফিন, ইংল্যান্ড (২০১৫) : ২০১৫ সালের ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার এই ম্যাচে ইংল্যান্ড টসে জিতে হলুদ ক্যাঙ্গারুদের ব্যাটিংয়ে পাঠায়। অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীতে ৩৪২ রানের পুঁজি পায় অজিরা। উক্ত ম্যাচে ব্রাড হেডিন,গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিশেল জনসনকে আউট করে কোন ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম হ্যাট্রিক করেন স্টিভেন ফিন।

৮. জেপি ডুমিনি, দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৫) : জেপি ডুমিনি হলেন এই প্রথম বিশ্বকাপের নক আউট স্টেজে হ্যাট্রিককারী বোলার। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে তার পরিচয় তিনি একজন ব্যাটসম্যান ও দলের দুঃসময়ে একজন পার্ট টাইম বোলার হিসেবে বল করে থাকেন। দলীয় ১১৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ক্রিজে তখন ম্যাথিউস ও সাঙ্গাকারা। কিন্তু সেদিন জেপি হয়েছিলেন একজন ফুল টাইম বোলার কারণ ঐদিন তিনি যে হ্যাট্রিক করেন। প্রথম শিকার ম্যাথিউস ডু প্লেসির হাতে তালুবন্দি হন, তারপর নুয়ান কুলাসেকারা ও পরে থারিন্ডু কুশালকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে হ্যাট্রিকের মধুর স্বাদ পান এই প্রোটিয়া খেলোয়াড়।