ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে নিহত ৬

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দিকে প্রবল গতিতে এগিয়ে চলেছে। আজ (৩ মে) শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার আগে ২০০ কিলোমিটার বেগে ওড়িশার গোপালপুর এবং পুরীতে আঘাত হানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর আঘাতের ফলে পুরীতে ভূমিধসের ঘটনার ৬ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে গতকাল ২ মে বৃহস্পতিবার ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বেলা ১২টা পর্যন্ত ওড়িশায় তাণ্ডব চালাবে ফণী। তারপর পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে যাবে শক্তিশালী ঝড়টি।

এদিকে ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে ওরিশার ১৭ জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনী ছাড়াও ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র ৮১ টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ওরিশার উপকূলে সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা দেড় মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে রাজ্যের গঞ্জাম, খুরদা, পুরীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ওরিশায় ফণী আঘাত হানার আগেই ওই রাজ্যসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি জেলায় ফণীর প্রভাব পড়তে পারে। বিপর্যয় মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খুলেছে রাজ্য সরকার।

এদিকে আজ ৩ মে শুক্রবার সকালে পুরী থেকে কয়েকটি ট্রেনে ফিরেছেন পর্যটকরা। পাশপাশি আজ সকাল ৫টা থেকে দীঘা থেকে বিশেষ বাস চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। সরিয়ে নেয়া হচ্ছে পর্যটকদের।

এ ব্যাপারে ওরিশার সরকার জানিয়েছে, ফণীর আঘাতে রাজ্যে ১০ হাজার গ্রাম ও ৫২টি শহর ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এ কথা মাথায় রেখে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৫ জন মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন লাখ মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।