প্রথম ইনিংস শেষ করেছি, এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করব: কাদের

সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে কী করবেন, সেকথা নিজেই জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দীর্ঘ ২ মাস ১৬ দিন পর আজ ১৯ মে রবিবার প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে আজ সকাল ১০টার দিকে দপ্তরে যান সেতুমন্ত্রী। কার্যালয়ে গিয়ে প্রথমেই রুটিন ফাইল ওয়ার্ক করেন ওবায়দুল কাদের। পরে পৌনে ১১টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক সভায় যোগ দেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি তো মরেই যেতাম। বেঁচে আছি। প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। ইনশা আল্লাহ এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করব। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা উড়াল সড়ক, ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা।’

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবার ঈদ যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। আগামী ২৫ মে গাজীপুর কোনাবাড়ী ও চন্দ্রায় দুটি উড়ালসড়ক ও চারটি আন্ডারপাস উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতি সেতু উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তা উদ্বোধন করবেন। আশা করা যায়, এবারের ঈদে আর যানজট হবে না।’

এ সময় অসুস্থতা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন সুস্থ আছি। তবে শারীরিক দুর্বলতাও আছে। এক দেড় মাস আগের মতো ছোটাছুটি করা যাবে না। দুই মাস পরপর আবার চিকিৎসকের কাছে ফলোআপ করাতে সিঙ্গাপুর যেতে হবে।’

এ সময় আগামী ২০ মে থেকে বিআরটিসির ঈদের টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলেও জানান ওবায়দুল কদের।

এর আগে গত ৩ মার্চ ভোরে ঢাকার নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

এরপর ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীর পরামর্শে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০ মার্চ ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়।

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল মাউন্ট এলিজাবেথ থেকে ছাড়পত্র পান ওবায়দুল কাদের। তবে ওই হাসপাতালের কাছেই ভাড়া বাসায় থেকে যান তিনি। সেখানে থেকে তিনি ফলোআপ চিকিৎসায় ছিলেন। গত বুধবার দেশে ফেরেন সেতুমন্ত্রী।