বাংলাদেশের উপকূলের কাছাকাছি ফণী, বাগেরহাটের লোকালয় প্লাবিত

বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র অবস্থান এখন উপকূলের খুব কাছাকাছি। এর প্রভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে পটুয়াখালী ও বরগুনায় ঝড়ো হাওয়াসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা।

এদিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে।

আজ ৩ মে শুক্রবার সকাল থেকে বলেশ্বর নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের চাপে উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ বোল্ডারের বেড়িবাঁধ ভেঙে বগী, সাতঘর এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

ইতিমধ্যে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে সন্তান-সন্ততি ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

এ ব্যাপারে বগী গ্রামের রাজ্জাক তালুকদার বলেন, ‘সিডরে মরেছে আত্মীয় স্বজন। ফণীর কথা শুনেই আতঙ্কে আছি। আজ সকালে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকলয়ে পানি ঢুকেছে। খুব বিপদে আছি।’

এ সময় আবুল হাশেম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছি। বেড়িবাঁধ ভেঙে আমার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কি হবে জানি না। সন্তানদের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়েছি।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদুল হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, ‘আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সকালে জোয়ারের পানির চাপে ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের আশপাশের মানুষ ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিতে শুরু করেছে। আমরা এর আগেও দাবি জানিয়েছিলাম মজবুত করে বেড়িবাঁধ দেয়ার জন্য, কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিতে অসহায় মানুষদের ভোগান্তি হচ্ছে।’

এ সময় সাউথখালি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘বগী এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লোকালয়ে পানি ঢুকছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছে।’

এ ব্যাপারে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর শুনেছি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রকল্পের লোকদের সাথে যোগাযোগ করে চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করার।’