মনে হয় এই সময় যদি দেশের হয়ে খেলতে পারতাম: সুজন

বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। শুক্রবার ফাইনালে ২১০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে দুই টাইগার ওপেনার তামিম ও সৌম্য। শেষ কিছুটা চাপে পড়লেও মোসাদ্দেকের হাফসেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক ২৪ বলে ৫ ছয় ও ২ চারে ৫২ রান করেন। এ জয়ের মাধ্যমে টানা ৬ ফাইনাল হারের পর সপ্তম ফাইনালে এসে শিরোপার দেখা টিম বাংলাদেশ।

এবার বিশ্বকাপ মিশন শুরু। আর বিশ্বকাপে টিম বাংলাদেশের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। এই ইংল্যান্ডেই ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক তিনি। সে বছরের ৩১ মে নর্দাম্পটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম রুপকার খালেদ মাহমুদ সুজন ২০০৪ সালে খেলা ছেড়ে কোচিংকেই নিজের ব্রত বলে মনে করছেন।

সুজন জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনার সাথেও জড়িয়ে আছেন আষ্টেপৃষ্টে। কখনো ম্যানেজার, কখনো সহকারী কোচ বা মেন্টর আবার কখনো টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ সকাল দশটায় লন্ডনের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে তার বিমান যাত্রা। এমিরেটসের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে লন্ডন পৌঁছাবেন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যানেজার।

১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন, এবার ম্যানেজার হয়ে বিশ্বকাপ অংশ গ্রহন করতে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

জবাবে খালেদ মাহমুদ সুজনের, ‘আসলে জাতীয় দলের সাথে থাকাটাই আমার ভালো লাগা। আমি কোন পদে আছি সেটা বিষয় না। ২০ বছর আগে ইংল্যান্ডে খেলোয়াড় হিসেবে ছিলাম, এবার ম্যানেজারের ভূমিকায় থাকবো- এমন ভেবে আমি পুলকিত বা উদ্বেলিত না। আমার দেশ ও জাতীয় দলের সাথে আমি সম্পৃক্ত আছি এটাই অন্যরকম ও সর্বোচ্চ ভালো লাগা। বাংলাদেশ দলের অংশ হিসেবে থাকাটাই আসলে সবচেয়ে বড়। জাতীয় দলের সঙ্গে, লাল সবুজের সঙ্গী হয়ে থাকা- এটাই যে অনেক বড় ভালো লাগা ও গর্বের। আমি চেষ্টা করি সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে। এখন তো আর মাঠে খেলি না, ম্যানেজার হিসেবে আমার ভূমিকা থাকে দলের ব্যবস্থাপনার কাজ করা। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা। মাঠে যাতে তারা সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারে সে জন্য অনুপ্রাণিত করা।’

সেই ইংল্যান্ডে আবার জাতীয় দলের ম্যানেজার হয়ে যাবেন কখনো কি ভেবেছিলেন, ২০ বছর আগে যে দেশে বিশ্বকাপ খেলেছেন?

উত্তরে সুজন বলেন, ‘নাহ, ঠিক সেভাবে ভাবিনি। অমন চিন্তা ছিল না। আমি খেলাটাকে মিস করি। এখনো মনে হয় যদি দেশের হয়ে খেলতে পারতাম, এই সময় যদি খেলতে পারতাম। এখন বাংলাদেশ টিম অন্যরকম, সুযোগ সুবিধাও অনেক। ক্রিকেটে আমরা দিনকে দিন অনেক উন্নতি করেছি। তাই মনে হয় আমি যদি এই দলের প্লেয়িং মেম্বার থাকতে পারতাম।’