মহানবী (স.) কে নিয়ে কটুক্তি করা কুবির সেই শিক্ষার্থী আটক

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব আমেরিকা’র ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজের একটি ভিডিওর কমেন্ট বক্সে মুসলাম ও
মহানবী (সঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) জয় দেব নামের এক শিক্ষার্থী। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী।

তার ওই মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (১৮ মে) শনিবার রাত ১১টার দিকে ‘ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফা নির্বাচনের আগে ধ্যানে বসেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’- এমন একটি ভিডিওবার্তা নিজেদের ভেরিফাইড পেইজ থেকে শেয়ার করে ভয়েস অব আমেরিকা নামক সংবাদমাধ্যটি। বার্তাটি শেয়ারের কিছুক্ষণ পর ঐ পোস্টে ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যটি করেন অভিযুক্ত জয় দেব।

ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ এই মন্তব্য স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। একের পর এক পোস্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর এহেন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এঅবস্থায় তোপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তার মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং এরকম মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে ক্ষমা প্রকাশ করেন। তবে তাতেও শান্ত হয়নি পরিস্থিতি।

এদিকে, ইসলাম ধর্ম ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অভিজিৎ বণিক নামের এক লিখেছেন, ‘যে অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে পারে না, সে কখনো নিজের ধর্মকেও শ্রদ্ধা করতে পারে না। … তীব্র নিন্দা জানাই এবং শাস্তির দাবি জানাই।’

রহমত উল্লাহ নীরব লিখেছেন, ‘বিষয়টি মোটেও হালকা নয়। সে কার সাথে চলে, কোথায় যায়, কি বই পড়ছে… সবকিছুই খতিয়ে দেখা জরুরি।’

শফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ধর্মীয় ব্যাপারে এমন নীচু মানসিকতার ছেলেদের ভার্সিটিতে না পড়াই বেটার। প্রশাসনকে বলবো যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।’

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো: ইমাম বলেন, ‘অভিযুক্ত জয় দেব কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মেসে থাকতো। সে ফেসবুকে ইসলাম ও মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে আমাদের খবর দেয়। আমরা আজ সকালে তাকে আটক করি। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

এদিকে বিষয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আইনে ব্যবস্থা নিবো। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আপাতত মামলা করার কোনো পদক্ষেপ নেই। উপাচার্যের পরামর্শে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।’