শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসবে শ্রীলঙ্কার জার্সির পেছনের গল্প জানলে

আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ফেবারিটের দৌঁড়ে পিছিয়ে থাকলেও জার্সি দিয়ে সমর্থকদের মন জয় করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, বাংলাদেশ-ভারতসহ অনেক দেশের সমর্থকরাই লঙ্কানদের রুচির প্রশংসা করছেন।

এত প্রশংসা আর ভালো লাগার মাঝেও একটি খুঁত খুঁজে পেয়েছেন সমর্থকেরা। সেটি হলো মূল জার্সিতে কচ্ছপের মতো কিছু ডিজাইন করা আছে। আর এই ডিজাইন নিয়েই কিছু মানুষ সোশ্যাল সাইটে হাসাহাসি করছেন। কিন্তু আসল কারণটা জানলে তাদের হাসি থামতে বাধ্য।

এদিকে ক্রিকেটবিশ্বে লঙ্কান সিংহ হিসেবেই পরিচিতি একসময়ের বিশ্বকাপজয়ী এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র। তাদের পতাকায় আছে সিংহের প্রতিকৃতি। শ্রীলঙ্কার জার্সিতেও সিংহের ডিজাইন বহুল প্রচলিত।

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ জার্সির বিশাল অংশজুড়ে একটি কচ্ছপসদৃশ ডিজাইন রয়েছে। যে কারণে কিছু লোক বলছে, ‘বর্তমান শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে সিংহকে মেলাতে না পেরেই এ কাজটা করা হয়েছে।’

কিন্তু জার্সির পেছনের গল্প স্রেফ চমকে দেওয়ার মতো। এটা জানলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসবে।

জানা গেছে, লঙ্কানদের এই জার্সিটি তৈরি করা হয়েছে সাগরে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের আবর্জনা দিয়ে। যেসব আবর্জনা সমুদ্রের পানি দূষিত করছে এবং সামুদ্রিক প্রাণীকূলকে বিলুপ্ত করে দিচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার দায়ভার থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

তাছাড়া কচ্ছপসদৃশ নকশা দিয়ে সামুদ্রিক জীবনের প্রতি দলটির অঙ্গীকারের কথাই প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহারে সবাইকে সচেতন করা এবং সমুদ্রের প্রাণী-পরিবেশ বাঁচাতে সবাইকে সাবধান হওয়ার বার্তা দিতে চায় তারা।

এদিকে ক্রিকেটে এমন কিছু এই প্রথম দেখা গেলেও ফুটবলে এর আগে সাগরে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের ব্যবহার দেখা গেছে। জানা গেছে, নৌবাহিনীর সহায়তা শ্রীলঙ্কার উপকূলে ভেসে থাকা ব্যবহৃত প্লাস্টিক জোগাড় করেছে দলটির পোশাকের পৃষ্ঠপোষক এমএএস হোল্ডিং।

এ ব্যাপারে এমএএস হোল্ডিংয়ের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা শীরেন্দ্র লরেন্স জানিয়েছেন, ‘২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য সাগরের প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা খুশি যে টেকসই ও সৃষ্টিশীলতাকে একসঙ্গে করে খেলাধুলার পোশাকে নতুন মাপকাঠি সৃষ্টি করতে পেরেছি।’