২১ বছর পর ঠিক সেই ১৭ মে’তেই প্রথম শিরোপা জয়

বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। শুক্রবার ফাইনালে ২১০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে দুই টাইগার ওপেনার তামিম ও সৌম্য। শেষ কিছুটা চাপে পড়লেও মোসাদ্দেকের হাফসেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক ২৪ বলে ৫ ছয় ও ২ চারে ৫২ রান করেন। এ জয়ের মাধ্যমে টানা ৬ ফাইনাল হারের পর সপ্তম ফাইনালে এসে শিরোপার দেখা টিম বাংলাদেশ।

আর কি অদ্ভুত মিল! এই দিনেই প্রথম ওয়ানডে জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ, ২১ বছর পর ঠিক সেই ১৭ মে’তেই প্রথম শিরোপা জয় টাইগারদের। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ শ্রীলঙ্কার মোরাতোয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আর তারও প্রায় একযুগ পর ১৯৯৮ সালের ১৭ মে ভারতের হায়দরাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটের প্রথম জয়টিও ছিল এই ১৭ মে তারিখে, মানে কালকের দিনে।

আর প্রথম ওয়ানডে জয় আর তার ২১ বছর পর কোন ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বা তিন জাতি আসরের ট্রফি বিজয়! রীতিমত কাকতালীয়, অতিকাকতালীয়। আরও একটি সাযুজ্য কিন্তু আছে।

মজার আরেকটি বিষয় হল- বাংলাদেশের প্রাণশক্তি, আশা ভরসা- সেই পঞ্চপান্ডব কিন্তু প্রথম ট্রফি জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেননি বা রাখতে পারেনি। তাদের বদলে প্রথম ট্রফি জয়ের নায়ক দুজন তরুণ সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। একই ভাবে ১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের ম্যাচেও তখনকার তিন সুপার স্টার ও প্রধান স্তম্ভ আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কেউ নায়ক নন। এমনকি আতহার আলী, এনামুল হক মনি আর খালেদ মাহমুদ সুজনও কিন্তু প্রথম জয়ের রূপকার হতে পারেননি।

সেদিন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক মোহাম্মদ রফিক। বল হাতে ৫৬ রানে তিন উইকেট দখল করার পাশাপাশি রফিক ব্যাট হাতে ইনিংসের ওপেন করতে নেমে খেলে ফেলেন ৮৭ বলে ৭৭ রানের ঝলমলে ও আক্রমনত্মক ইনিংস। তার বাঁহাতের চটকদার ও ঝড়ো উইলোবাজির মুখেই খড়কুটোর মত উড়ে যায় কেনিয়ান বোলিং। কেনিয়ার ২৩৬ রান টপকে খেলার ১২ বল বাকি থাককে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ জেতানো ব্যাটিংয়ের জন্য রফিক হন ম্যাচসেরা।