৬ কারণে বগুড়ায় মান্নাকে চায় বিএনপি

বগুড়ার নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে একটি কঠিন শর্তও জুড়ে দেয়া হয়েছে। বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও এতে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি- এমন আভাস দিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সে লক্ষ্যে শুরু হয়েছে প্রার্থী খোঁজার কাজও।

কেন্দ্রীয় না স্থানীয়- কোন পর্যায়ের নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তা নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে চলছে নানা আলোচনা। সেই হিসেবে বিএনপি চাচ্ছে, মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে। দলের হাইকমান্ডের পক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে সেই প্রস্তাবও মান্নাকে দিয়েছেন। কিন্তু মান্না তাতে রাজি হননি।

মূলত শর্তের কারণেই আটকে আছে মনোনয়ন ইস্যুটি। সেই শর্তটি হচ্ছে- মান্না যদি দল (নাগরিক ঐক্য) ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন, তা হলেই তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তার নিজ দল থেকে নির্বাচন করলে বিএনপি এতে সমর্থন দেবে না।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্নাকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখেছে।

প্রথমত, মান্না বগুড়ার সন্তান, এখানে তার একটা আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে।

দ্বিতীয়ত, মান্না খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি আয়োজিত সভা-সমাবেশগুলোতে ভোকাল।

তৃতীয়ত, মান্নার একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য আছে, তিনি ডাকসুর সাবেক দুইবারের ভিপি।

চতুর্থত, তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

পঞ্চমত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি মান্নার সহমর্মিতা আছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আগে বিএনপির টানা অবরোধ চলাকালে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর তিনি গুলশান কার্যালয়ে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে আসেন।

ষষ্ঠত, গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বগুড়া-২ একটি আসন থেকে নির্বাচন করেন। তাই প্রেস্টিজিয়াস এই আসনে মান্নাকে বিবেচনায় রেখেছে বিএনপি।

এদিকে, বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সপ্তাহখানেক আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তাকে জানান যে, লন্ডন থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি বগুড়ায় নির্বাচন করবেন কিনা? করলে বিএনপির হয়ে করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তখন আমি জানতে চাই- বিএনপির হয়ে মানে কী, বিএনপিতে যোগ দিয়ে? জবাবে মির্জা ফখরুল সহাস্যে বলেন, এর মানে তো তা–ই হয়।’

মান্না আরও বলেন, ‘বিষয়টি এই পর্যন্তই থেমে আছে। এরপর এ বিষয়ে আমাকে আর কিছু বলা হয়নি। যা কিছু হচ্ছে পত্র-পত্রিকার খবরে। আমি একটি দল করছি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আমি। আমি দল ছাড়ব না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, ‘দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আমি নির্বাচন করতে চাই না। আর ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করার কথা যদি আপনি বলেন সে ক্ষেত্রে আমি বলব- আগে সেই প্রস্তাব আসুক, ভাবব।’