দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেমির স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের দেয়া ৩০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ৪ রানে বিদায় নেন হাশিম আমলা। এর দীর্ঘ সময় উইকেট টিকে থেকে ৪৭ রান করে বিদায় নেন ডি কক। মাত্র ৭ রানে ফিরে যান এইডেন মার্করাম। তবে কিছুটা প্রতিরোধ করার চেস্টা করেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। কিন্তু ৬৩ রান করে আমিরের বলে বিদায় নেন তিনি। এরপর বিপর্যয়ে পরে দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেস্টা করছেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও ডেভিড মিলার। আবার শাদাব খানের আঘাত। ৩৬ রানে রাসি ভ্যান ডার ডুসেনকে বিদায় করলেন তিনি। এরপর শাহিন আফ্রিদির আঘাত। ডেভিড মিলারকে ৩১ রানে ফিরিয়ে দিলেন তিনি। এরপর মরিচকে বিদায় করেন রিয়াজ। আবারো রিয়াজের আঘাত। ফিরে যান রাবাদা।

রিয়াজের তৃতীয় শিকার। ১ রান কর ফিরে যান লুঙ্গি এনগিডি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।

এর আগে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে রবিবার ৩০ তম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি পাকিস্তান। ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পাওয়া দলটির পয়েন্ট মাত্র তিন। টানা ৩ ম্যাচে জিতলেও বাকি দলগুলোর ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে তাঁদের সেমিফাইনাল খেলা।

অন্যদিকে, প্রোটিয়াদের চেয়ে একম্যাচ কম খেলে তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাত নম্বরে আছে সরফরাজ আহমেদের দল। হাতে রয়েছে চারটি ম্যাচ, সবকটিতে জয় পেলে সেমিফাইনাল খেলার বড় সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেছে পাকিস্তান। দুই ওপেনারে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ৭ ওভারে ৫০ রানের পার্টনাশীপ গড়ে পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত ৮১ রানে ওপেনিং জুটিতে ভাঙ্গন এনে দেন ইমরান তাহির। ৫০ বলে ৪৪ রান কার ফখর জামানকে বোকা বানান তিনি। আমলার হাতে স্লিপে কট দিয়ে ফিরে ফখর।

মাত্র ৬ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি করতে পারলেন না ফখর জামান। ৫০ বলে ১ টি ছয় ও ৬টি চার হাঁকিয়ে ৪৪ রান করেন তিনি। তবে দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি কাছে ছিলেন আরেক ওপেনা উল-হক। কিন্তু ইমরান তাহিরের দুর্দান্ত বল নিজেই ক্যাচ ধরে ফিরিয়ে দেন ইমাম-উল-হককে। ৫৭ বলে ৬টি চার হাঁকিয়ে ৪৪ রান করেন।

এরপর বিদায় নেন মোহম্মদ হাফিজ। এইডেন মার্করাম বলে ৩৩ বলে ১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ২০ রান করেন। তবে দুর্দান্ত অধশতক হাঁকালেন বাবর আজম। ৬১ বলে ৫ চার হাঁকিয়ে তিনি অর্ধশতক হাঁকান। হাফসেঞ্চুরি করার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু বেশি দূর আগাতে পারেননি। ফেলোকায়োর বলে ৮০ বলে ৭টি চারের সাহর্যে ৬৯ রান করে ফিরে যান।

বাবর ফিরে গেলেও হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন হারিস সোহেল। ৬ চার ও ১ ছক্কায় হাফসেঞ্চুরি পুরণ করেন তিনি। এরপর লুঙ্গি বলে ১৫ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান ইমাদ ওয়াসিম। ৪ রান করে ফিরে যান ওয়াহাব রিয়াজ। লুঙ্গির বলে ৮৯ রান করে ফিরে যান হরিস সোহেল শেষ পর্যন্তু হারিসে সোহেলে দুর্দান্ত ইনিংসে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রান। জিততে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩০৯ রান করতে হবে।

দক্ষিন আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), এইডেন মার্করাম, রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, ডেভিড মিলার, আন্দাইল ফেলোকায়ো, ক্রিস মরিস, কাগিসো রাবাদা, ইমরান তাহির, লুঙ্গি এনগিডি।

পাকিস্তান একাদশ: ইমাম-উল-হক, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), হরিস সোহেল, ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব খান, ওয়াহাব রিয়াজ, শাহীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির।