ফিক্সিং উড়িয়ে দিয়ে যা বললেন গুলবাদিন

চলতি দ্বাদশ আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে শিরোপা দৌড়ে অনেক আগেই বাদ পড়েছে আফগানিস্তান। তাদের আর পাওয়ার কিছুই ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের হারানোর অনেক কিছুই ছিল। এই অবস্থায় গতকাল মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এই ম্যাচে জয়ের পাল্লা কখনো আফগানিস্তানের দিকে ঝুঁকেছে আবার কখনো পাকিস্তানের দিকে। তবে আফগানিস্তানের জয়ের পাল্লাটাই ভারি ছিল বেশ। শেষে নাটকীয় এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সরফরাজের দল।

গতকাল পাকিস্তানের শেষ ৫ ওভারে ৪৬ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। আফগানদের বোলিং ব্যর্থতায় টেলঅ্যান্ডাররা সেই রান ডিঙিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। তবে এর জন্য শতভাগই দায়ী আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব। ৪৬তম ওভারটি করে ১৮ রান দেন তিনি।

গুলবাদিন ওই ওভারে লাইন-লেংথকে ভুলে গিয়ে ফুলটস আর বাজে স্লোয়ারের পশরা বসিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে জঘন্যতম ওভার উপহার দিয়েছেন। এ সময়ে আফগান অধিনায়কের এমন খরচে বোলিং নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে তো তার ওপর ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ এনেছেন। তার অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আফগান সমর্থকরা। শুধু আফগান সমর্থকরাই নয়, বেশিরভাগ ক্রিকেটপ্রেমীও মুণ্ডুপাত করছেন গুলবাদিনের। আর সেই প্রশ্নেই কিক্রেটপ্রেমীরা অভিযোগ তুলেছেন। গুরুতর অভিযোগ। সেটা ম্যাচ ফিক্সিং বা পাতানো ম্যাচ।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে ৪৬তম ওভারে তিনি কেন নিজেই বল করলেন? যেখানে ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন আফগান স্পিনাররা। শিনোয়ারি, রশিদ ও মুজিবের ৫ ওভারই বাকি ছিল। স্পিনারদের দিয়েই বাকি চার ওভার শেষ করাতে পারতেন গুলবাদিন। কিন্তু আগের ৮ ওভারে ৪৭ রান দেয়ার পরও এমন গুরুত্বপূর্ণ ওভারের সময় নিজের হাতে বল তুলে নিলেন গুলবাদিন।

সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কেন ওই ওভারটি করতে নিজেকেই পছণ্দ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম যে, সব বোলার ওদের লক্ষ্য নয়। এমন মুহূর্তে স্পিনকে ওভার বাউন্ডারিতে পরিণত করতে পারতেন পাক ব্যাটসম্যানরা। তাই পেস আক্রমণই ঠিক হবে বলে ভেবেছিলাম। অবশ্য হামিদ (হাসান) থাকলে আমি ওই ওভারটি তার হাতেই তুলে দিতাম। ও থাকলে পুরো ম্যাচেই তিন-চার ওভারের বেশি বল করতাম না। কারণ এ উইকেটে বল করার মতো পর্যাপ্ত গতি আমার নেই।’

গুলবাদিন বলেন, প্রতিটি দলেরই নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে আর ৪৬তম ওভারটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে ওভারে আমি ১৮ রান দিয়েছি। এটি মোটেও ভালো হয়নি।