বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চাকরিপ্রার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ চিকিৎসক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে বলে জানা গেছে। এ সময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ ও প্রহারে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চাকরিপ্রার্থীদের ওপর পুলিশের এমন হামলার প্রতিবাদে বিএসএমএমইউর একাডেমিক ভবনের নিচে আমরণ অনশন শুরু করেছেন অর্ধশতাধিক চিকিৎসক।

আজ রোববার (৯ জুন) ঈদের ছুটির পর সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা আগামীকাল ১০ জুন (সোমবার) থেকে অনুষ্ঠিতব্য মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে মিছিল বের করে ও নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়।

এ সময় তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। তাদের বেধড়ক মারধরে ১৫ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তারা দাবি নিয়ে ভিসি কনক কান্তি বড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালান।

উল্লেখ্য, ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএসএমএমইউতে ২০০ চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষার ফল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হয়। ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় একটি পদের জন্য ৪ জনকে পাস করেন। এ হিসাবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। চূড়ান্ত নিয়োগের লক্ষ্যে তাদের ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

আর এই ফল ঘোষণার পর পরই সুযোগবঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের দাবি সঠিক নিয়ম মেনে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।