বন্দুকের নলে ক্ষমতা নেওয়া সেনাবাহিনীকে বিশ্বাস করি না

সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশটি দখলে নিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী এক বছর পর নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও, আদৌ তারা ক্ষমতা ছাড়বে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। বাসিন্দাদের আশঙ্কা জরুরি অবস্থার কারণে খাদ্য, স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষেত্রে সঙ্কটের মধ্যে পড়বেন তারা। তবে অনেক মানুষ আবার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণে উচ্ছ্বসিত।

গতকাল সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সামরিক অভ্যুত্থান এবং বিতর্কিত নেত্রী অং সান সুচিকে গ্রেফতার ও জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। দেশটির সেনাবাহিনী আশ্বস্ত করে বলেছে, জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হলে আয়োজন করা হবে সাধারণ নির্বাচনের।

তবে বন্দুকের নলে ক্ষমতা নেওয়া সেনাবাহিনীকে বিশ্বাস করতে পারছে না মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ। তাদের আশঙ্কা অতীতের মতো দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতা আকড়ে থাকতে পারে সামরিক জান্তা সরকার।

একজন বলেন, আমরা কিভাবে বিশ্বাস করবো এক বছরের জন্যই সেনাবাহিনী ক্ষমতায় থাকবে? কিসের ওপর ভিত্তি করে? অতীতের কথা চিন্তা করলে কিছুতেই তাদের বিশ্বাস করা যায় না। সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশটির অনেক নাগরিক আবার চিন্তিত অর্থনীতি নিয়ে। সামরিক অভ্যুত্থান এবং জরুরি অবস্থা জারির কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বতির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

অন্যজন বলেন, নানা বিষয় নিয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে আমাদের। চলমান করোনা মহামারির কারণে খাদ্য, স্বাস্থ্যসহ সাধারণ জীবনধারণের জন্য নানা ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান সঙ্কটময়। এরমধ্যে এই অভ্যুত্থান আমাদের সমস্যা যে আরও বাড়াবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কি ঘটবে তা দেখার অপেক্ষায় আছি।

তবে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেওয়ায় খুশি মিয়ানমারের নাগরিকদের একাংশ। দেশটির বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিলও করেছেন অনেক মিয়ানমারের নাগরিক।