যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট গড়তে সম্মতি দিলো ইসরাইলি সেনাবাহিনী

ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাপে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট গড়তে সম্মত হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

গত মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) আরবস৪৮ এর বরাতে মিডলইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে পড়েই রাজি হয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আভিব কোচাভি।

গত মার্চে দেশটিতে নির্বাচনের আগে এই ইস্যুটি গুরুত্ব সহকারে সামনে আসে। পুনরায় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই মৈত্রী জোট গঠনের বিষয়টিকে ‘গ্রেট ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নেতানিয়াহু বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চেয়েছিলেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করা হয়। বলা হয়, রাজনৈতিক পর্যায়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচনা নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না।

তবে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, এই ধরণের পদক্ষেপ সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া নেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু চাপে পড়ে এই জোটে যেতে রাজি হয়েছেন ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর প্রধান।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ধরণের চুক্তিতে গেলে তা ইসরাইলের জন্য বড়সড় লোকসানের।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরণের জোট রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শামিল। এটি সিরিয়ায় হামলা চালাতে বাধা সৃষ্টি করবে এবং ইরাকে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ইসরাইলকে বাধ্য করবে। এছাড়া ইরাকে ইরানি টার্গেটে সম্ভাব্য হামলা থেকেও ইসরাইলকে বিরত থাকতে হবে। এই চুক্তি হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো অভিযানে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে ইসরাইলকে নিষেধ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে নেতানিয়াহুর সমর্থকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক জোট ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।