ডাচ পার্লামেন্টের প্রথম হিজাবি মুসলিম সদস্য

নেদারল্যান্ড পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে প্রথম বারের মতো একজন হিজাবি মুসলিম নির্বাচিত হয়েছেন। গত রবিবার (২১ মার্চ) নেদারল্যান্ডের জলবায়ু কর্মী কৌথার বাউচলখাটকে পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

টুইটারের এক পোস্টে বাউচলখাট জানান, সব বাধার পর আমরা বিজয়ী। সবার প্রতি ধন্যবাদ। সবার সঙ্গে মিলে ঘৃণাকে জয় করে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশা করি। ২৭ বছর বয়সী বাউচলখাট মরোক্ক বংশোদ্ভূত একজন জলবায়ু কর্মী। নেদারল্যান্ডের গ্রোয়িন লিংকস পার্টি থেকে তিনি পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

বাউচলখাটের বিরুদ্ধে ডানপন্থী দলের সদস্যরা দীর্ঘ দিন যাবত ঘৃণা ও বৈষম্যমূল প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তদুপরি তীব্র প্রচারণা ও নির্বাচনে নিজ দলের পরাজয়ের পরও নির্বাচনে তাঁর বিজয়ে অনেকে নজরে আসেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে এক খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাজ্যের শতাধিক রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাউচলখাটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে নিন্দা জানান।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, কৌথার বাউচলখাট নির্বাচনে ১৯ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জয়বায়ু বিষয়ক সচেতনতা ও কর্মতৎতপরতা স্থানীয়দের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন তিনি।

ডাচ সংবাদ মাধ্যম গ্লামাউর-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বাউচলখাট জানান, নেদারল্যান্ডের অনেকে আমার ধর্মকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে নেতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত করতে চান। তাছাড়া আমার মতো মুসলিমকে জলবায়ু বিষয়ক কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত দেখে বেশ অবাক হোন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে পৃথিবী দান করেছেন। পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখা আমাদের সবার কর্তব্য।

ফিলিস্তিনের সমর্থনে সক্রিয়তার কারণে ডাচ সংবাদ মাধ্যমে বাউচলখাটকে সেমিটিজমবিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়। আটরেচট ডেটা স্কুল এবং ডি গ্রোইন আমস্টারডামার ম্যাগাজিনের গবেষণা মতে ৩০ ভাগের বেশি টুইট বার্তায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

নেদারল্যান্ডে ইসলাম দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম। ২০১০ সালের আদমশুমারির পরিসংখ্যান মতে মোট জনসংখ্যার ৪ ভাগ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন।

সূত্র: দ্য নিউ আরব