দলগত অনুশীলনে ফিরতে মুখিয়ে তামিমরা

নিউজিল্যান্ডে ১৪ দিন পর বন্দি জীবন থেকে বের হয়েছে বাংলাদেশ। কোয়ারেন্টাইনের সময় অনুশীলন চললেও সেটা ছিল সীমিত পরিসরে। তবে ক্রাইস্টচার্চে চতুর্থ দফায় দলের সবাই করোনা নেগটিভ হওয়া এবং ১৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় কুইন্সটাউনে দলগত অনুশীলনে ফিরতে যাচ্ছে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার থেকে কুইন্সটাউনে দলগত অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে কয়েকটি অনুশীলন সেশন ছাড়াও অনুশীলন ম্যাচ খেলবেন তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমরা। কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ায় দলগত অনুশীলনে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের বিপক্ষে না থাকলেও কুইন্সটাউনে দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেটরি। কোয়ারেন্টাইন শেষে তিনি ইতোমধ্যে কুইন্সটাউনে পৌঁছেছেন। ১০০ দিনের চুক্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই স্পিনার।

১০০ দিন পূরণ না হলেও তাঁর সঙ্গে চুক্তি রাখছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ফলে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে ভেটরির। বাংলাদেশের দলগত অনুশীলন শুরু হলে শেষবারের মতো মেহেদী হাসান মিরাজদের সঙ্গে যোগ দেবেন ভেটরি।

কুইন্সটাউনে নিজেদের অনুশীলন প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘সে (ভেটরি) আসলে ইতোমধ্যে কুইন্সটাউনে রয়েছে, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা কিছু অনুশীলন সেশন করব, আমরা অনুশীলন ম্যাচও খেলব। কোয়ারেন্টাইনের সময় আমরা ছোট ছোট গ্রুপে অনুশীলন করেছি, কাল থেকে আমরা দল হিসেবে অনুশীলন করব। এটার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’

১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে দলের সবার সঙ্গে যোগ দিতে পেরে বেশ খুশি ‍ক্রিকেটাররা। দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও নিউজিল্যান্ডের আতিথেয়তায় খুশি তামিম। এই ১৪ দিন ক্রাইস্টচার্চে যারা বাংলাদেশ দলের দেখাশোনা করেছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ দিতে চান বাঁহাতি এই ওপেনার। এ ছাড়া এটি নতুন এক অভিজ্ঞতাও বলে জানিয়েছেন তিনি।

তামিম বলেন, ‘দারুণ অনুভূতি। এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আমরা জৈব সুরক্ষা বলয়ে ছিলাম। কিন্তু এমন একদম আইসোলেশনে ছিলাম না। সত্যি কথা বলতে এখানে যারা ছিলেন, তাঁরা আমাদের খুবই ভালো দেখাশোনা করেছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সেভাবে সব দেখাশোনা করেছে, আমরা শুধু ধন্যবাদ দিতে পারি। এটা সহজ না। কিন্তু ওরা যতটা সহজ করা যায় সেটা করেছে।’

করোনার কারণে ২০-২২ দিনের জায়গায় ৪৫ দিনের সফর করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে এটি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন তামিম।বরং প্রতিটি দেশের নিয়মকে সম্মান জানাতে চান তিনি। বাংলাদেশের এই দলপতি বলেন, ‘হ্যাঁ, কঠিন তো করেই। অনেক বড় পার্থক্য তৈরি করে দেয়। আমরা এখন হয়তো ৪৫ দিনের সফর করছি। সব স্বাভাবিক থাকলে হয়তো আমরা ২০-২২ দিনে বাড়ি ফিরে যেতাম। এখন ১৪ দিন আইসোলেশন করতে হচ্ছে।’

‘কিন্তু এখন তো সব অন্যরকম। কিন্তু আপনাকে প্রত্যেকটি দেশের নিয়মকে সম্মান জানাতে হবে। এখন ভালো দিক হচ্ছে আমরা বাইরে বের হয়েছি। পরিস্কার বাতাসে আছি। এখন গত দুই সপ্তাহর মতো না। যখন আমাদের একটু সময় দেওয়া হতো বের হওয়ার। এখন সব ভালো।’