নতুন সংবিধান তৈরির ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান

সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম নেতা হিসেবে সূচকে এগিয়ে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এছাড়াও বিশ্বের পঞ্চম জনপ্রিয় নেতা হলেন তিনি।

আজ বুধবার (২৪ মার্চ) তার ক্ষমতাসীন একে পার্টির সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে নতুন সংবিধান তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। আর তিনি তখন উপনীত হবেন জীবনের ৬৯ বছরে। তাই জীবনের শেষ সময়ে তার দেশকে একটি সময় উপযোগী সংবিধান উপহার দিয়ে যেতে চান প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

এই সম্মেলনটি ছিল মূলত ২০২৩ সালকে ঘিরে তার পার্টির কার্যনির্বাহী কমিটিকে ঢেলে সাজানো এবং পার্টির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করার। ২০২৩ সালকে ঘিরে তুরস্কের প্রস্তুতি ব্যাপক। ওই বছর দেশটি উদযাপন করবে আধুনিক তুরস্কের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এরদোগানেরও এ বছরটি নিয়ে প্রস্তুতি কম নয়। তুরস্কের পরবর্তী নির্বাচনও ২০২৩ সালে। সংবিধান অনুযায়ী এরদোগান তখন শেষবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন।

তুরস্কের বর্তমান সংবিধানটি রচনা করা হয়েছিল ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পরে সামরিক জান্তার নির্দেশে। তখন সংবিধানে জনগণের মতামত বা গণতন্ত্রকে প্রাধান্য দেয়ার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় সামরিক বাহিনীকে। পরবর্তীতে সে সংবিধানে অনেক সংশোধনী আনা হয়। কিন্তু একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন তুরস্কের জন্য ছিল সময়ের দাবি।

এরদোগান তার ১৯ বছর শাসনামলে অনেকবার নতুন সংবিধান গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিলেও অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কারণে এতদিন পেরে উঠেননি। তার মতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী একটি সংবিধান তৈরি করার এখনই মোক্ষম সময়।

কী কী থাকবে এই সংবিধানে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ এ সংবিধান তৈরির আগে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেয়া হবে। জনগণের মতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে এই সংবিধান হবে এমন একটি সংবিধান যা তুরস্কের বিগত ২০ বছরের অর্জনকে রক্ষা করবে। যে সংবিধান নিশ্চত করবে কুর্দি জনগোষ্ঠীর আরো বেশি অধিকার, অন্যান্য সংখ্যালঘুদেরও আরও বেশি অধিকার দিবে, নারী অধিকারকে আরো সমুন্নত করবে, মানবাধিকার, পারিবারিক বন্ধন, তুরস্কের বৈদেশিক বিষয়ক নীতি, সামরিক শক্তি, অর্থনীতি এ সবকিছুর রক্ষক হবে নতুন সংবিধান।

তবে এই সংবিধান ঘোষণার মধ্য দিয়ে এরদোগান আবারও তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিলেন।

সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি