নিউজিল্যান্ডে রাতে জেগে থেকে দিনে ঘুমাচ্ছেন টাইগাররা

করোনা কালে বাংলাদেশ দলের প্রথম বিদেশ সফর নিউজিল্যান্ড। দেশটিতে এমনিতেও করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রনে। তাছাড়া সে দেশে ভ্রমণ করলে খুবই কঠোর কোয়ারেন্টাইন নীতি মেনে চলতে হয়। একটি ঘরে একাই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সঙ্গনিরোধ অবস্থায় থাকতে হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকেও তাই করতে হচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাসমান সাগর পাড়ের দেশটিতে পৌছেছে টাইগাররা।

এরপর থেকেই সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে তারা। যদিও প্রত্যেকদিন ৩০ মিনিট বা এর থেকে বেশি সময় বাইরের পরিবেশে হাঁটার সুযোগ পান। বাকি ২৩ ঘন্টা কোন না না কোন ভাবে চলে গেলেও ক্রিকেটারদের প্রধান সমস্যা ঘুম। কেউ কেউ নাকি রাতে জেগে থেকে সারাদিন ঘুমাচ্ছেন। এমনিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে ৭ ঘন্টা সময়ের পার্থক্য নিউজিল্যান্ডের। আর এ কারণেই ক্রিকেটারদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।

নিউজিল্যান্ড থেকে এক ভিডিও বার্তায় জালাল ইউনুস বলেন, প্রথম ২-৩ দিন অনেকেরই সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু পরে যখন বের হওয়া শুরু করলো, আমরা এখন দিনে দুইবার বের হতে পারি ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা যায়। সবার সাথে সবার দেখা হওয়াতে অনেকেই মানসিকভাবে ফ্রেশ হয়ে গেছে। আসলে আর কোন অভিযোগ নেই, একটা অভিযোগ হল কয়েকজনের ঘুমের সমস্যা হয়েছে। সময়ের কারণে হতে পারে। অনেকে রাতের বেলা না ঘুমিয়ে দিনের বেলায় ঘুমাচ্ছে। আশা করি আবার যখন ওরা আউটডোরে যাবে তখন মানিয়ে নিবে।

নিউজিল্যান্ডে পৌছানো পর খাবার-দাবার নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়ছিলেন ক্রিকেটাররা। এমনিতেই ঘরে বন্দী তার ওপর নিউজিল্যান্ডে করোনা বিধি-নিষেধ থাকায় বাংলাদেশি খাবার খেতে পারছিলেন না তারা। তবে এখন সেই সমস্যাও নেই বলে জানিয়েছেন জালাল। ক্রিকেটাররা চাইলে পছন্দ মতো খবার অনলাইন খাদ্য সরবারহের মাধ্যম ‘উবার ইটসে’র মাধ্যমে বাইরে থেকে আনাতে পারছেন।

জালাল ইউনুস আরও বলেন, মানসিকভাবে সবাই ফিট, খাওয়াদাওয়ারও কোন অভিযোগ নেই কারও। হিল্টন হোটেলে আছি আমরা, প্রকৃতপক্ষে স্ট্যান্ডার্ড খাওয়া দাওয়া, খুবই ভালো। অপশনও আছে, কেউ চাইলে উবার ইটসের মাধ্যমে খাবার আনাতে পারে। দুই একজন খাচ্ছেও। তবে মোটামুটি সবাইই হোটেলের খাবারই খাচ্ছে।

জালাল ইউনুস বলেন, সবার সাথে দেখা হচ্ছে, যখন আমরা গ্রুপ হয়ে বের হচ্ছি। গ্রুপগুলো আবার পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। প্রতিদিন একই গ্রুপ থাকেনা। এতে করে প্রতিটি প্লেয়ারের সাথেই সশরীরে কথা বলতে পারি। দেখা সাক্ষাত হচ্ছে। সবাই আলহামদুলিল্লাহ মানসিকভাবে ফিট আছে। একটাই সমস্যা যে ঘুম। আশা করি এটাও আউটডোর অনুশীলনের পর ঠিক হয়ে যাবে।