মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সেই ভয়ংকর হামলার ভিডিও প্রকাশ

ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সে সময় ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ১২টিরও বেশি ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর।

পেন্টাগন জানায়, ইরবিল ও আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা হয়েছে। ইরান থেকেই মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করা হয়।

এদিকে ইরাকের আল আনবার প্রদেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল আসাদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নতুন ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে টিভি চ্যানেল ‘সিবিএস’। ড্রোনের সাহায্যে তোলা সেই ভিডিও ফুটেজ অন্য কোথাও সম্প্রচারিত হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন এই টিভি চ্যানেল।

তাদের প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ‘সিক্সটি মিনিটস’ এ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। ওই ভিডিও চিত্রে সে সময় ঘাঁটিতে থাকা একজন মার্কিন সামরিক কমান্ডার ইরানি হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন একটা মালবাহী ট্রেন আপনার পাশ দিয়ে গেলে যেমন অনুভূত হয় ঠিক তেমনিভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আসছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনা কমান্ডের প্রধান ফ্রাঙ্ক ম্যাক ক্যানজি’র বরাত দিয়ে সিবিএস টিভি চ্যানেলের ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন যদি ঘাঁটি খালি করা না হতো তাহলে ১০০-১৫০ জন মার্কিন সেনা নিহত হতো এবং ২০ থেকে ৩০টি জঙ্গিবিমান ধ্বংস হয়ে যেত।

ম্যাক ক্যানজি আরও বলেন, সেদিন যে হামলা হয়েছিল সে রকম কোনো হামলা আমি এর আগে কখনো দেখিনি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একেবারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। ইরানিরা ঠিক যে পয়েন্টে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলতে চেয়েছে ঠিক সে পয়েন্টে গিয়েই সেগুলো পড়েছে।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও তার ৯ সহযোগী ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। জেনারেল সোলাইমানিকে কবর দেওয়ার আগেই মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মার্কিন ঘাঁটি আইন আল আসাদে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান, এর প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন ছিল এক হাজার পাউন্ডের বেশি।