মুসলিম না হয়েও যারা পবিত্র রমজানে রোজা রাখেন

অসংখ্য ফজিলতের রোজা রাখার প্রতিদান স্বয়ং নিজেই দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মহান আল্লাহ। আর তাই পবিত্র রমজান মাস এল মুসল্লিরা শুরু করেন সিয়াম সাধনা। তবে কেবল মুসলিমরাই নন। অনেক অমুসলিমও এখন রোজা রাখছেন।

গত ১৩ই এপ্রিল টুইটারে এক বার্তায় বিস্ময় সৃষ্টি করে ঘোষণা দিয়ে শ্রীলংকার প্রধান বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ রেহান জয়াবিক্রম বলেন, আমি একজন বৌদ্ধ এবং আমি আমার জীবনে বৌদ্ধ দর্শন মেনে চলার জন্য সর্বোতভাবে চেষ্টা করি। একথা বলার পরেও জানাতে চাই, আমি আমার মুসলিম ভাই ও বোনদের সাথে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য অপেক্ষা করছি। এটাই হবে আমার জীবনে প্রথম রোজা রাখা – সুতরাং আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। আমি ভোর চারটায় উঠে কিছু খেজুর, দই এবং ফল খেয়েছি। তার পর সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কিছুই খাইনি। নতুন এই অভিজ্ঞতার পর দিন শেষে নিজেকে বেশ সতেজ লেগেছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, পানি পান না করে থাকাটা সত্যি কষ্টকর।

রেহান জয়াবিক্রমের টুইটার ফিডে তার রোজা রাখার ঘোষণার পর তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রচুর মন্তব্য-জবাব পড়েছে। তবে এতে আরো প্রকাশ পেয়েছে যে একজন অমুসলিম হিসেবে রমজান পালন যে তিনিই প্রথম করছেন তা মোটেও নয়।

শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে থাকেন ম্যারিয়ান ডেভিড, যিনি পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি জানালেন, তিনি বেশ কিছু কাল ধরেই এটা করে আসছেন। আমি একজন ক্যাথলিক খ্রিস্টান এবং আমিও রমজানের সময় রোজা রাখি। এর ফলে আমার মনে একটা দারুণ স্পষ্টতা, সচেতনতা, সহমর্মিতা এবং শৃঙ্খলা আসে।

অনুরাধা কে হেরাথ হচ্ছেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অনেকদিন আগে আমি যখন মোরাতুয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, তখন আমিও একবার রোজা রেখেছিলাম।

শ্রীলংকার ম্যারিয়ান ডেভিড বলেন, এটা শুধুই ত্যাগ বা শৃঙ্খলার সময় নয়। এটা সবার সাথে সময় কাটানো এবং প্রিয়জনদের সাথে উদযাপনেরও সময়। আমরা যখন বাইরে যাই, বন্ধু বা পরিবার নিয়ে একসাথে রোজা ভাঙার জন্য বসি তখন এটা একটা ডিনার পার্টির মতই লাগে- শুধু মদ্যপান ছাড়া। আমরা নতুন নতুন খাবার চেখে দেখি, অনেক মজা করি, যদিও খাওয়ার পরিমাণ কিছুদিন বাদেই অনেকটা কমে যায়।

সূত্রঃ বিবিসি