লাঠি হাতে প্রমীলা বাহিনী, গ্রামকে স্পর্শ করেনি করোনা

ভারতজুড়ে ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। দেশটির প্রতিটি জেলায়, গ্রামে-গঞ্জে ঢুকে পড়েছে ভাইরাসটির সংক্রমণ।

গতকাল বুধবারও (২৮ এপ্রিল) দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪ লাখের মতো মানুষ, মারা গেছে প্রায় ৪ হাজার।

ভয়াবহ সংক্রমণের মধ্যেও মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার চিখালার গ্রামকে স্পর্শ করেনি করোনা। ইতোমধ্যেই সংক্রমণ মোকাবিলার ব্যবস্থায় নজির তৈরি করেছে এই গ্রাম। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, গ্রামটিতে ৮৭টি পরিবারের বাস, জনসংখ্যা সব মিলিয়ে ৪৭৬। গ্রামে ২৪০ জন নারী ও ২৩৬ জন পুরুষ।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কোনো বহিরাগতকে এই গ্রামে ঢুকতে দেন না তারা। নিজেরাও সচরাচর গ্রাম ছেড়ে বের হন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য গ্রামের দু’জন যুবককে নিয়োগ করেছেন তারা। ওই দু’জনই প্রয়োজন জেনে গ্রামের বাইরে গিয়ে সেসব নিয়ে আসেন ও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন।

গ্রামটিতে প্রবেশের মূল রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে দিনের ২৪ ঘণ্টা পালা করে লাঠিহাতে পাহারা দেন গ্রামের নারীরা। বিনা প্রয়োজনে কাউকে রাস্তায় ঘুরতে দেখলে পেটাতেও পিছপা হন না তারা।

চিখালার গ্রামটি এতদিন দেশি মদের জন্য কুখ্যাত ছিল। বেআইনি দেশি মদ তৈরি করেই মূলত জীবিকা নির্বাহ করত গ্রামবাসী। কিন্তু করোনা ঠেকাতে ওই গ্রামের নারীদের এই উদ্যোগ ভারতের জন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার