ক্যাপ নয় যেন আলোর মশাল উঠেছে শরিফুলের হাতে

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার কালীগঞ্জ গ্রাম থেকে উঠে আসা শরিফুল ইসলামের জাতীয় দলে উঠে আসাটা এত মসৃণ ছিল না। অনেক কঠিন এবং সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে ক্রিকেটার হয়েছেন শরিফুল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন মাসে তিন ফরম্যাটে অভিষেক ক্যাপ মাথায় উঠে গেছে এই টাইগার পেসারের।

এক বছর আগেও যে গ্রামে বিদ্যুতের আলো জ্বলত না সন্ধ্যার পর, সেই শরিফুলের হাতেই জ্বলছে আলোর মশাল। ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে এই শরিফুলকে চিনতে শিখেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বজয় করে এসেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটে জায়গা হয় তার। এখান থেকে খুব কম সময়েই ঢুকে পড়েন জাতীয় দলের রাডারে।

নিউজিল্যান্ড সফরের দলে ডাক যায় শরিফুল। কিউইদের বিপক্ষে ২৮ মার্চ প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হবার পর তিন ম্যাচের সিরিজে সব ম্যাচই খেলে ফেলেন। এর পরের মাসেই ২৯ এপ্রিল টেস্ট অভিষেক হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে।

ওয়ানডে অভিষেকের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়নি লম্বা সময়। টেস্টের এক মাস পরেই ১৩৬তম ওয়ানডে ক্যাপ উঠেছে শরিফুলের মাথায়।

টিভিতে খেলা দেখতে হলে সাইকেল পথে আধাঘণ্টা দূরত্বে বাজারে যেতে হতো। ২০১৫ সালে প্রথমবার মোস্তাফিজকে দেখেছিলেন টিভির পর্দায়। সেখান থেকেই পেশাদার ক্রিকেটার হবার ইচ্ছা জাগে। কাটার মাস্টার খ্যাত এই তারকার হাতেই ক্যাপ হাতে তুলে নিলেন শরিফুল।

দিনাজপুরের এক ট্রায়ালে ক্লেমন রাজশাহী অ্যাকাডেমির কোচ আলমগীর কবিরের চোখে পড়েন শরিফুল। সেখান থেকে আর পেছনে ফেরে তাকাতে হয়নি। এক বছরের মধ্যে রাজশাহীর হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে হয় অভিষেক।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলে মিলে সুযোগ। মাহবুব আলী জাকির হাত ধরে শুরু করেন অনুশীলন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে যুব বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরেন দেশে।